ভিপি নুরের ওপর হামলা
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৪
ঢাবিতে বিক্ষোভ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ২ নেতা আটক ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঢাবি’র
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছন দিয়ে, মধুর ক্যান্টিন হয়ে প্রক্টর কার্যালয় এর সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় মিছিল থেকে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে একসাথে, নির্লজ্জ প্রক্টর, ধিক্কার ধিক্কার ছাত্রলীগের কালো হাত ভেঙে দাও, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন, শিক্ষা সন্ত্রাস একসঙ্গে চলে না। সমাবেশে ডাকসু সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস চলতে দেওয়া হবে না। যে প্রক্টর ছাত্রদের রক্ষা করতে পারেনা সন্ত্রাসের হাত থেকে। সেই প্রক্টরকে পদে থাকার কোনো বৈধতা নাই। অবিলম্বে তার পদত্যাগ করতে হবে। আমরা প্রক্টরকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। আমরা জানতে চাই আপনারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? শিক্ষার্থীরা সমস্বরে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন।ছাত্র ফেডারেশন এর জাহিদ সুজন বলেন, বুয়েটে আবরারের রক্ত শুকায়নি। রোববার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর ছাদ থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুজনকে ফেলে দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লেজুড় বৃত্তি প্রশাসন।
ঢাবি প্রশাসন হামলার ‘মদদদাতা’ কিনা?: এদিকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম নৃশংস হামলা কীভাবে হয়! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও প্রশাসন আছে বলে আমাদের মনে হয় না। অথবা প্রশাসন নিজেই হামলার মদদদাতা। প্রশাসনের যদি কোনও প্রশাসনিক চরিত্র থাকতো তাহলে এভাবে ছাত্রদের ওপর কোনও একটি পক্ষের দ্বারা হামলার মতো ঘটনা ঘটতো না। এই হামলা অত্যন্ত নৃশংস ছিল।’ গতকাল সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে হামলায় ভিপি নুরুল হকসহ আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঢাবি’র: ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছয় সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনকে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সুপ্রিয়া সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. অসীম সরকার, স্যার পি জে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য ড. মো. মিজানুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাঈনুল করিম। ঘটনাটি তদন্ত করে ছয় কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিকে অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগে রোববার দুপুরে ডাকসু ভবন ও মধুর ক্যান্টিন এলাকায় ভিপি নুর ও তার সমর্থকদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি কেন ও কীভাবে সংঘটিত হলো এবং এর সাথে কারা জড়িত, তা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, গতকাল সোমবার আহত ভিপি নুরসহ শিক্ষার্থীদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দুই নেতা আটক: ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হক নূরসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দুই নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই দুজন হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য। গতকাল সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন জানান। আল মামুন ছাত্রলীগের গত কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ সম্পাদক পদে ছিলেন। আর তূর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক। পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানান, দুজনকে আটক করা হলেও হামলার ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

