সারাদেশে তীব্র শীতে বেড়েছে রোগ-ব্যাধি, এক সপ্তাহে ঢাকায় ভর্তি ৩৬ হাজার
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৮
রাজধানীসহ সারাদেশে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৩৮ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন কারণে মৌসুমি রোগের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। শীতকালীন বিভিন্ন রোগের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। আর এ জন্য জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে সচেতনতার অভাবকেও দায়ী করছেন তারা। আর এমন পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্কদের জন্য আলাদা যত্ন নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালের অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘শীতজনিত কারণে শিশু ও বয়স্কদের নানা রকম স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি দেখা দেয়। এই সময়টা যাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা আছে তাদের জন্যও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শীতের সময় তাদের আলাদা যত্ন নিতে হবে। যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে গরম কাপড় পরিধান করা, ঠাণ্ডা পানির পরিবর্তে গরম পানি ব্যবহার ও গরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা। এই সময়টাতে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বয়স্ক ও শিশুদের ঘর থেকে বের না হওয়াই ভালো।’ তিনি আরও বলেন, ‘মৌসুম পরিবর্তনের কারণে ভাইরাসজনিত রোগ জ্বর, সর্দি ও কাশিও হয়ে থাকে এই সময়ে। আর এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া ভালো। কারণ এইসব রোগের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক অনেক সময়েই কার্যকর হয় না।’ স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ‘শীতের প্রকোপ বাড়ার পর থেকে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগ বাড়তে থাকে। এ সময়ে ডায়রিয়া (রোটা ভাইরাস) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ে তেমনি বৃদ্ধি পায় শ্বাসতন্ত্রজনিত বিভিন্ন সমস্যার রোগী। মূলত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই এমনটি হয়ে থাকে।’ স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১২ হাজার ৯৩০ জন ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে পাঁচ হাজার ৫১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও শীতকালীন নানা রোগে (জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, চর্মরোগ, জ্বর ইত্যাদি) আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮ হাজার ৯০ জন রোগী চিকিত্সা নিয়েছেন। এই সাত দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। এই বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৫৯৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। যার মধ্যে এক হাজার ৪১ জন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে, দুই হাজার ৫৮৭ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে এবং ছয় হাজার ৯৬৭ জন শীতকালীন নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তথ্য সহায়তা সারাবাংলা।

