চলতি বছরে কলকাতার সেরা ছবি

চলতি বছরে কলকাতার সেরা ছবি

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন সংস্করন । ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ১৫:৩০। আপডেট ১৬:২০

দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন বছর। পুরোনো স্মৃতিকে ভুলে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চলচ্চিত্রপাড়া।  নানা ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে বছরটা বেশ কাটল টলিউডের। সিনেমার তালিকাও মনে রাখার মতো। কোনও ছবি বক্স-অফিসে কখন এল আবার কখন চলে গেল, জানাই গেল না। আবার এরকম ছবিও ছিল যা সমালোচকদের মতে সেরা, কিন্তু দর্শকের বিচারে ঠিক উল্টোটা। কোনও ছবি দর্শক চুটিয়ে দেখেছেন, তবে তা মন ভরাতে পারেনি ‘ফিল্ম বাফ’-দের। চর্চার নিরিখে বছরের সেরা ১০টি বাংলা ছবির তালিকা তৈরি করা গেল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাহায্যে উত্তরদক্ষিণ পাঠকদের জন্য তা নিচে তুলে ধরা হল:

নগরকীর্তন: বছরের প্রথম দিকে কলকাতার সিনেমাহলে মুক্তি পায় কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘নগরকীর্তন’। মধু ও পুটির প্রেমের গল্প। মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দকে সবসময়ই সমাজ তার মাপকাঠিতে তুল্যমূল্য বিচার করে এসেছে।

‘নগরকীর্তন’ সেই বদ্ধমূল ধারণা থেকে সরে গিয়ে পরিবর্তনের দিশারী। মুক্তির পর বহুল প্রশংসিত হয়েছিল ঋদ্ধি সেন ও ঋত্বিক চক্রবর্তী অভিনীত এই ছবি। বক্সঅফিসেও সাফল্য পায় অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্ট প্রযোজিত ‘নগরকীর্তন’।

কণ্ঠ: চলতি বছরের মে মাসে কলকাতায় মুক্তি পেয়েছিল জয়া আহসান অভিনীত ছবি ‘কণ্ঠ’।  মুক্তি পর থেকেই প্রশংসা কুড়ায় ছবিটি। এতে অর্জুন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিবপ্রসাদ, তার স্ত্রী চরিত্রে পাওলি দাম ও স্পিচ থেরাপিস্টের মূখ্য চরিত্রে দেখা যায় জয়াকে। গল্পে দেখা যায়, অর্জুন মল্লিক একজন রেডিও জকি। কণ্ঠই যার পেশা-নেশা। কথা বলেই জীবন চালাই। শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কণ্ঠ।  কিন্তু হঠাত্ করেই একদিন গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হন অর্জুন।

এ কারণে ডাক্তার তার কণ্ঠবক্সটাই কেটে দেওয়ার পরামর্শ দেন। এর ফলে কণ্ঠের আওয়াজ একেবারে হারিয়ে যাবে না হয়তো, ডাক্তার জানান। কিন্তু কণ্ঠ দিয়ে যে স্বর ও আওয়াজ বের হবে তা স্বাভাবিত থাকবে না। ক্যান্সারের কারণে যাদের কণ্ঠে আওয়াজ নেই, তাদের ভাষা শেখানোর কাজটিই করেন জয়া। এককথায় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের সিনেমা ‘কণ্ঠ’।

রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত: প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের এই সিনেমা এ বছরের উল্লেখযোগ্য সিনেমা। হাতে গোনা কয়েকটি হলে মুক্তি পেয়েছিল এই সিনেমা। সাতদিনের ব্যবধানে মোটামুটি মুখের কথাতেই হলে পৌঁছে যান দর্শক। সমালোচনার নিরিখে প্রথম সারিতে জায়গা করে নেয় ঋত্বিক চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের জ্যোতিকা জ্যোতি অভিনীত ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’।

ঘরে বাইরে আজ: রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাস অবলম্বনে অপর্ণা সেন বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে তৈরি করেন ‘ঘরে বাইরে আজ’। বক্স অফিসে প্রত্যাশিত ফল পেয়েছে যীশু-তুহিনা-অর্নিবাণের রসায়ন। বহমান সময়, বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া সময়, গণহত্যা, গণঅভ্যুত্থান-ইতিহাসের এই সাদা-কালো মাইলফলকগুলো সেলুলয়েডে ধরতে চেয়েছেন অপর্ণা সেন।

তারিখ: চূর্ণী গাঙ্গুলি পরিচালিত এ সিনেমা সেরা সংলাপের জন্য জাতীয় পুরস্কার পায়। এই সিনেমার মেরুদণ্ড তৈরি করে দেয় ফেসবুক স্মৃতির ঝাঁপি। মূল চরিত্র তিনটি-অনির্বাণ (শাশ্বত), ইরা (রাইমা) এবং অনির্বাণের ছোটবেলার বন্ধু রুদ্রাংশু (ঋত্বিক)।

স্মৃতির পিঠে স্মৃতি এঁকে এগিয়ে গেছে গল্প। সমালোচকদের নিরিখে এই সিনেমা ভালো হলেও বক্স অফিসে ব্যবসা করতে পারেনি।

গুমনামী: পরিচালক সৃজিত মুখার্জির ‘গুমনামী’ মুক্তি ছিল এ বছরের মেগা ইভেন্ট। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে তৈরি এই সিনেমা ঘিরে বিতর্ক কম হয়নি। নানা আইনি জটিলতা পেরিয়ে মুক্তি পায় এটি।

প্রথমদিন থেকেই ছক্কা হাঁকায় প্রসেনজিত্ চ্যাটার্জি অভিনীত এ সিনেমা। সমালোচকদের মতেও এ বছরের সেরা পাঁচটি সিনেমার  মধ্যে একটি এটি।

কেদারা: ‘কেদারা’ দিয়ে সিনেমা পরিচালনায় হাতেখড়ি সংগীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর। পরিত্যক্ত এক মানুষ একাকীত্ব কাটাতে প্রিয়জনদের গলা নকল করে নিজের সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যান। এক প্রান্তিক মানুষ নিজেকে ভালো রাখার আশ্চর্য এক চিত্রনাট্য। এ মানুষটির জার্নির সঙ্গেই অদ্ভুতভাবে জুড়ে যায় কেদারা। জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে বিশেষ জুরির সম্মান পায় এই সিনেমা।পূজার সময় মুক্তি পাওয়া এ সিনেমা ব্যবসার নিরিখে তৃতীয় স্থানে ছিল।

প্রফেসর শঙ্কু ও এল ডোরাডো: সত্যজিত্ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি গিরিডিবাসী বৈজ্ঞানিক। যার হাতে ছিল নিশ্চিহ্নাস্ত্র আর পকেটে মিরাকিউরল বড়ি, সেই প্রফেসর শঙ্কু সিনেমার পর্দায়। সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় ‘প্রফেসর শঙ্কু ও এল ডোরাডো’ আর কিছু না হোক অনায়াসে কল্পনার জগতের প্রবেশদ্বার। শৈশব থেকে কল্পনা করে আসা দৃশ্যগুলো চোখের সামনে সত্যি হয়ে উঠলে খুঁত বের করা কঠিন কাজ। সেদিক থেকে সফল সন্দীপ রায়ের এই সিনেমা। ব্যবসার দিক থেকে শঙ্কু ও নকুড়বাবুর স্কোর মোটামুটি ভালোই।

পরিণীতা: রাজ-শুভশ্রীর নতুন জার্নি ‘পরিণীতা’। শুরুতেই সাফল্য। মেহুল ও তার বাবাইদাকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে এ সিনেমার গল্প। মেহুল স্কুলে পড়ে, বাবাইদাকে একটু অন্য চোখেও দেখে। জানলা দিয়ে একমনে বাবাইদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে। বলা যেতে পারে, মেহুলের ‘ক্রাশ’ বাবাইদা।

সেকথা মুখ ফুটে বলে ওঠার আগেই ঘটে অঘটন। আত্মহত্যা করে বাবাইদা। তারপর? শুভশ্রী দেখিয়ে দিয়েছেন, শুধু নায়িকার নিরিখে তাকে না দেখলেই ভালো। ঋত্বিক সিনেমাটিতে স্বমেজাজে আসীন। বক্স অফিসের অর্থপ্রাপ্তিও খারাপ হয়নি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading