২ মাসে ইন্ডিয়া থেকে এসেছে ৪৪৫
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০২ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৩:৪২
বিদায়ী বছরে ইন্ডিয়া থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা প্রায় হাজারখানেক নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশটিতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) পরে গত দুই মাসে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) এসেছেন ৪৪৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক। বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) সীমান্তরক্ষা বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম পিলখানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। বিজিবি প্রধানের দাবি, ফেরত আসা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক, যারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ইন্ডিয়ায় গিয়েছিলেন; এদের ফেরত আসার সঙ্গে এনআরসির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
সম্প্রতি বিজিবি-বিএসফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার পিলখানায় বাহিনীর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন মেজর জেনারেল সাফিনুল। গত ২৫-৩০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা পর্যায়ের ওই বৈঠক হয়। গত অগাস্টে ইন্ডিয়ার আসামের চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পর রাজ্যটির ১৯ লাখ মানুষের নাম তালিকায় স্থান পায়নি। বাদ পড়াদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইন্ডিয়া থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সীমান্ত পেরিয়ে ইন্ডিয়ানদের বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনায় আটক হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এনআরসির পর ইন্ডিয়ায় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন (সিএএ) করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ‘যাওয়া’ হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম করা হয়। এরপর থেকেই সহিংস বিক্ষোভ চলছে দেশটির বিভিন্ন অংশে। ওই অস্থিরতার মধ্যে ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইন্ডিয়া সফর বাতিল করা হয়। তবে এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে ইন্ডিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, এসব একান্তই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এই পরিস্থিতিতে বিদায়ী বছরের শেষ সময় নয়াদিল্লিতে প্রতিবেশী দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী প্রধানদের বৈঠকটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অনেকের কাছে বিবেচিত। বিজিবি প্রধানের ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সংগতকারণেই সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, বিদায়ী বছরে সীমান্তে মোট কতজন অনুপ্রেবশকারী আটক হয়েছে? জবাবে বিজিবিপ্রধান বলেন, “কোনো অনুপ্রবেশকারীকে ঢুকতে দেওয়া হয় না, আমরা দেই না।” একই সঙ্গে মেজর জেনারেল সাফিনুল বলেন, “ গত এক বছরে তিনজন পাচারকারীসহ প্রায় এক হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা সবাই বাংলাদেশি এবং অধিকাংশই ইন্ডিয়ায় কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন।”

