ছাত্রলীগকে আস্থা ধরে রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছাত্রলীগকে আস্থা ধরে রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৪ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৭:৫৪

নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের পাশপাশি ছাত্রলীগকে একটি মর্যাদাপূর্ণ সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির অভিভাবক, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসীদের জায়গায় পরিণত করা হয়েছিল। ছাত্ররা আমাদের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যেতে তারা দেশকে পরিচালনা করবেন। তাদের যদি বিপথে নামানো হয়, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য তাদের ব্যবহার করা হয়, তাহলে তারা দেশকে নেতৃত্ব দেবে কীভাবে?’ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সততা-আদর্শ ছাড়া সফলতা আসবে না। সাময়িকভাবে নামডাক আসতে পারে, অর্থবিত্ত হতে পারে। কিন্তু দেশের ইতিহাসে মনে রাখার মতো কিছু করতে পারবেন না।’

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার এই নির্দেশনা আসে।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২০ সাল। এই বছরের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করব। ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সাল আমরা মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার আমাদের ভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে ছাত্রলীগ। আমরা দেখেছি, যখনই কোনো সংগ্রাম হয়েছে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।’ জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘শেখ মুজিব ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে নিউক্লিয়াস ফর্ম গঠন করেছেন। সকল আন্দোলনের সূতিকাগার হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের নির্দেশনা দিতেন যেন সেই নির্দেশনা সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।’

স্বাধীনতা পূর্ব স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ছাত্রলীগ ক্রান্তিকালে ভূমিকা রেখেছে। যখন আমার বাবা জেলে ছিলেন ছাত্রলীগের নেতারা যোগাযোগ করতেন আমার মায়ের সঙ্গে। মা ছাত্রলীগ নেতাদের যেভাবে নির্দেশনা দিতেন, নেতারা সেভাবে নির্দেশনা পালন করতেন।’ সরকার দলীয় প্রধান বলেন, ‘আমি চাই, ছাত্রলীগ যেন সবসময় নীতি বজায় রেখে রাজনীতি করে। জাতির পিতা বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ছাত্রলীগকে কাজ করে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা এর সকল নেতা-কর্মীকে মনে রাখতে হবে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা, ঐতিহাসিক ৬ দফা, ১১ দফা এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।’ নতুন নেতৃত্বের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে তাদের আচার-আচরণ, তাদের কথা-বার্তা, তাদের রাজনীতি-সবকিছু সেভাবেই করা উচিত। যেন এই সংগঠনটা একটা মর্যাদাপূর্ণ হয় এবং দেশ ও জাতির কাছে যেন তারা একটা আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে চলতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে একটি সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের যে ঐতিহ্য, যে অবদান- এটা প্রতিটা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর মনে রাখা উচিত।’

এরআগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এ সময় সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও পরে ছাত্রলীগের দলীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের শহিদগণ এবং সকল গণঅন্দোলনে আত্মাহুতিদানকারী ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ এবং এর সকল সহযোগী সংগঠনের নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর পরেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

বাংলা, বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের লক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ছোটবেলায় দেখা এদেশের রাজনীতির উদাহারণ টেনে বলেন, ‘আইয়ুব খান ‘মার্শাল ল’ দিয়ে ক্ষমতা দখল করে প্রেসিডেন্ট হলো। আগে ক্ষমতা দখল, তারপর দলগঠন এবং তারপরে ছাত্র সংগঠনের কিছু ছেলেদের হাতে অস্ত্র দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের একটা অবস্থান নেওয়ার অপচেষ্টা।’ তিনি বলেন, ‘তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে ’৭৫ এর জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে যখন জিয়াউর রহমান আসে তখনও দেখি তার একই চরিত্র। ঠিক আইয়ুব খানের পদাংক অনুসরণ করে তিনি মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দিয়ে তাদের ব্যবহার করতেন একটা লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এভাবে বহু মেধাবী ছাত্রের জীবন তারা নষ্ট করেছে। যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদরদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে তাদের রাজনীতি করার অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি ৭ খুনের আসামিকেও রাজনীতি করতে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি তোফায়েল আহমেদ এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পক্ষ থেকে খালেদ মোহাম্মদ আলী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন। দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের পরিচয় করিয়ে দেন।

ছাত্রলীগের পুনর্মিলনীতে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সারাদেশ থেকে আগত ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ এবং বিশিষ্ট নাগরিকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে পূর্ণকালিন দায়িত্ব ও প্রদান করেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading