অনুমোদন ছাড়াই ফসলী জমিতে শতশত ইটভাটা

অনুমোদন ছাড়াই ফসলী জমিতে শতশত ইটভাটা

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৬ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১২:৪৪

সাভার, ধামরাই ও কেরানীগঞ্জে অনুমোদন ছাড়াই একাধিক ইটভাটা গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিন ফসলী জমি, পাড়ামহল্লা, স্কুলকলেজ, মসজিদকবরস্থান ও ঘন বসতির পাশেই ভাটায় পুড়ছে ইট। যে কারনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এসব এলাকার মানুষ। নষ্ট হচ্ছে আবাদী জমি। সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানাগেছে, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে প্রভাব খাটিয়ে জমি হাতিয়ে নেয় ভাটা মালিকরা। ইটভাটা তৈরীর সকল কাজ শেষ করে এরপর স্থানীয় চেয়ারম্যানের ট্রেড লাইসেন্স ও অনাপত্তি পত্র দিয়ে পুড়ানো শুরু হয় ইট। তারপরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে তিন ফসলী জমিকে এক ফসলী দেখিয়ে নেয়া হয় ছাড়পত্র। এভাবে কাগজের ফাঁক গলিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে আবাদী জমি। কমছে ফসলের উত্পাদন। ধামরাই উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন মোল্লার নিজ এলাকায় রয়েছে তাঁর নিজেরই প্রায় আটটি ইটভাটা। যার একটিরও বৈধ কোন অনুমোদন নেই। অথচ প্রায় ১৫ বছর যাবত্ তিনি ভাটা চালিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। আলতাফ হোসেন মোল্লা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অফিস থেকেও কোন সনদ পাননি তিনি। আলতাফ হোসেন মোল্লার মত অনেক প্রভাবশালীরা ইচ্ছে করলেই গড়ে তুলছেন ইটভাটা।  শুধুমাত্র ধামরাইয়ের বড় চন্দ্রাইল গ্রামে পাড়া, কবরস্থান, মসজিদ, স্কুলের কাছে পাশাপাশি গড়ে উঠেছে পাঁচটি ইটভাটা। যার একটিরও বৈধ কোন অনুমোদন নেই। গ্রামবাসী বাঁধা দিলেও তাদের প্রতিবাদ কোন কাজে লাগেনি। স্থানীয় লুত্ফর কোম্পানী ও আলতাফ চেয়ারম্যান প্রভাব দিয়েই মাড়িয়েছেন ফসলের ক্ষেত। সাভারের হেমায়েতপুরের আব্দুল আলী ও হাবিবুর রহমানের পাশাপাশি দুটি ইটভাটা নিয়ম না মেনেই গড়ে উঠেছে প্রায় ১৫ বছর ধরে। এছাড়াও ধামরাইয়ের বাটুলিয়ার ফরহাদ উদ্দিনের এম,এফ ব্রিকস, বাসনার গোলাম মোস্তফার তুহিন সুপার ব্রিকস, কাকনাইরে মজিবর রহমান মজনুর স্বর্ণ ব্রিকস, পাল্লী চকপাড়ার মাহি এন্টারপ্রাইজ ও ব্রিকস, কালামপুরের ধাইরা গ্রামে সাদ্দাম হোসেন রাসেলের এস,এন,বি ব্রিকস, আমজাদ হোসেন ও সুলতান উদ্দিনের মক্কা মদিনা ব্রিকস, কেরানীগঞ্জের আমিন ব্রিকসসহ এমন শত শত ভাটা বছরের পর বছর অনুমোদন ছাড়াই চলছে। ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান তিন ফসলী জমিকে এক ফসলী জমির সনদ দিয়ে থাকেন। তিনি জানান, আমি নির্মিত ইটভাটা গুলোকে সনদ প্রদান করি। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল হক জানান, ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে। ইটভাটা বন্ধ করে দেয়ার পর আবার অনেকেই ইটভাটা চালু করছেন বলেও অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তিনি ব্যক্ত করেন। নিয়মের বাইরে গড়ে উঠা এসব ইটভাটার দুষন থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করা আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি। তবে, ভাটা মালিকদের ক্ষতিগ্রস্থ না করে সময় বেঁধে দিয়ে অবৈধ ভাটা বন্ধ করারও দাবি এসেছে ভাটা মালিকদের কাছ থেকে। 

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading