অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ নিউজিল্যান্ড
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৬ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১২:৫২
সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে গল্পটা ছিল একই- অস্ট্রেলিয়ার রানের পাহাড়, জবাবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ব্যর্থতা। শেষ টেস্টেও এর ব্যতিক্রম হলো না। আরেকবার ব্যাটিং ব্যর্থতার উপাখ্যান রচনা করল নিউজিল্যান্ড। সিডনি টেস্ট চার দিনেই হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াটওয়াশের লজ্জা পেয়েছে কিউইরা। সিডনিতে আজ সেমাবার (৬ জানুয়ারি) ২৭৯ রানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ২ উইকেটে ২১৭ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। ৪১৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিউজিল্যান্ড বিপদে পড়ে যায় শুরুর দিকেই । ২ ওভারের ব্যবধানে ওপেনার টম ব্লান্ডেল (১) ও টম ল্যাথামকে (২) তুলে নেন মিচেল স্টার্ক । এরপর উইকেট-উৎসব শুরু করেন নাথান লায়ন। একই স্কোরে জিত রাভাল ও গ্লেন ফিলিপসকে আউট করেন তার অফ স্পিনে।
অভিজ্ঞ রস টেলর কিছুক্ষণ ব্যাট করে ২২ রান তুলতে পারেন। প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেও কিউইদের ইতিহাসে টেস্টের সর্বাধিক রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন । টেলরের রান ৭ হাজার ১৭৪। পেছনে ফেলেছেন স্টিভেন ফ্লেমিংকে। তার রান ছিল ৭ হাজার ১৭২।
কিউই ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে কিছুটা প্রতিরোধ ছিল শুধু কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের ব্যাটে। ৫২ রান করে অজিদের জয়টাকে একটু বিলম্বিতই করেছেন শুধু। সর্বোচ্চ ইনিংস খেলা এই অলরাউন্ডারকে ফিরিয়েছেন প্রধান ঘাতক লায়ন । ম্যাট হেনরি চোট আক্রান্ত থাকায় মাঠে নামেননি। ১৩৬ রানেই শেষ কিউইদের দ্বিতীয় ইনিংস। ৫০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন লায়ন। আগের ইনিংসেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পেয়েছেন, এই নিয়ে পেয়ে গেলেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো ।২৫ রানে ৩ উইকেট স্টার্কের।
এবারের অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মে টানা পঞ্চম টেস্ট জয়ের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিন শুরু করেছিল দুর্দান্তভাবে। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ৫ ইনিংস পর সেঞ্চুরি তুলে নেন। রোরি বার্নস ৪০ রানে ফিরে গেলে ওয়ার্নারের যোগ্য সঙ্গী হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন আগের ইনিংসেই ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়া মার্নাস লাবুশেন। ব্যক্তিগত ৫৯ রানে তার উইকেট পতনের পর ২ উইকেটে ২১৭ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্নার অপরাজিত থাকেন ১১১ রানে।
বেচারা লায়ন! দুই ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েও ম্যাচসেরা হতে পারেননি। হবেন কিভাবে? তার সামনে যে ছিলেন ‘ব্যাটিং মধুচন্দ্রিমার’ মধ্য দিয়ে যেতে থাকা লাবুশেন। প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরির(২১৫) সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসের ফিফটি- লাবুশেনের হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পাশাপাশি সিরিজসেরার পুরস্কার।

