বৃষ্টিভেজা মাঠে গোলবন্যা, ফাইনালে বসুন্ধরা
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬, আপডেট ১৯:৩১
বৃষ্টিতে ভেজা, খানিকটা কর্দমাক্ত মাঠ-তবু গতি থামেনি বসুন্ধরা কিংসের! ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই তারা বুঝিয়ে দেয়, আজকের লড়াইটা একপেশেই হতে চলেছে। ডান প্রান্ত থেকে সাদ উদ্দিনের নিখুঁত ক্রস ধরে রাকিব হোসেনের কোনাকুনি শটে শুরু হয় গোলের গল্প, যা শেষ পর্যন্ত গিয়ে থামে চারটিতে।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আজ প্রথম কোয়ালিফায়ারে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে তারা উড়িয়ে দিল ৪-০ গোলে! এই জয়ে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে পা রাখল চ্যাম্পিয়ন কিংস!
প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি কিংস। বরং গোল হজমের পর কিছুটা ছন্দে ফিরেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ১৩ মিনিটেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল কেরফালা কৌয়াতের সামনে, কিন্তু সহজ হেড বাইরে পাঠিয়ে সেই সম্ভাবনা নষ্ট করেন তিনি। এরপরও ছিটেফোঁটা আক্রমণে চাপ তৈরির চেষ্টা ছিল, তবে শেষ স্পর্শের দুর্বলতায় তা আর ফল দেয়নি।
অন্যদিকে কিংস সুযোগ তৈরি করেছে নিয়মিত, যদিও ভাগ্য আর অফসাইডের ফাঁদে পড়ে কয়েকবার হতাশ হতে হয়েছে তাদের। দোরিয়েলতন গোমেজের দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিক জালে জড়ালেও সেটি বাতিল হয়, আবার বিরতির আগে একা গোলরক্ষককে পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় মাত্র এক গোলের ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন বদলে যায় ম্যাচের চিত্রনাট্য। শুরুতে ব্রাদার্স আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, কিন্তু গোলরক্ষক মেহেদী হাসান ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় তারা পথ খুঁজে পায়নি। সেই ব্যর্থতার সুযোগটাই নির্মমভাবে কাজে লাগায় বসুন্ধরা কিংস।
৭১ মিনিটে সাদ উদ্দিনের আরেকটি নিখুঁত ক্রস থেকে দোরিয়েলতন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দুই মিনিট পর আবারও আঘাত-শাহরিয়ার ইমনের পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ তখন কার্যত শেষ।
শেষদিকে বদলি নেমে সাব্বির হোসেন যেন কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। ৮৮ মিনিটে তার গোলেই ৪-০ ব্যবধান পূর্ণতা পায়, আর নিশ্চিত হয় কিংসের ফাইনালের টিকিট।
এই জয়ে বসুন্ধরা কিংস শুধু ফাইনালে উঠেই থেমে থাকেনি, বরং নিজেদের শিরোপা রক্ষার বার্তাটাও জোরালোভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে ব্রাদার্স ইউনিয়নের গল্প এখনো শেষ হয়নি। মঙ্গলবার কুমিল্লায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার-সেখানেই শেষ ভরসা ধরে রেখে তারা আবার মাঠে নামবে নতুন লড়াইয়ের প্রত্যাশায়।
ইউডি/রেজা

