নোয়াখালীতে শিমের বাম্পার ফলন , কৃষকের মুখি হাসি
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৮ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৪:১৮
চলতি মৌসুমে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে শিমের চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে শিম উঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ৯৫০ হেক্টর জমি ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নে বিচ্ছিন্নভাবে আরো অনেক জমিতে শিমের চাষ হয়েছে। এবার প্রতি হেক্টর জমিতে শিমের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ টন। ঘণ কুয়াশা ও শীতকালীন বৃষ্টিতে শিমের নতুন কিছু ফুল ঝরলেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনাবাদি জমিতে কৃষকরা সর্জন পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করছেন। কয়েক বছর ধরে এই পদ্ধতিতে শিমের আবাদ ভালো ও বাজার দর বেশি হওয়ায় এর আবাদ কয়েক গুণ বেড়েছে। চরের জমিগুলো লবণাক্ত হওয়ার কারণে ধান বা রবি শস্য চাষ করা যায় না। তাই বর্তমানে তারা সর্জন পদ্ধতিতে শিম, শসা, চিচিঙ্গা, বরবটি, করলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। জমি কেটে নালা ও বেড তৈরি করে তার ওপর ফসল ফলানো হয়। সবজি উত্পাদনে সরকারি সহযোগিতা পেলে চরাঞ্চলের সবজি চাষ আরো বাড়বে বলে আশাবাদী কৃষকরা। উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের কৃষক মিজান ব্যাপারী জানান, তিনি এক একর জমিতে মৌসুমি সবজি হিসেবে শসা, চিচিঙ্গা, বরবটি ও করলার চাষ করেন। আর রবি মৌসুমে শিমের আবাদ করেন। তবে দুই বছর শিম চাষে ভালো লাভ পাওয়ায় এবার দেড় একর জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার শিম বিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার প্রায় সব উপজেলায় শিমের চাষ হলেও মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্কে চাষের পরিমাণ বেশি। এছাড়াও প্রায় সড়কের পাশে ও প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনাসহ বাড়ির পাশের জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে শিম চাষ হয়েছে।

