শাপলার শালুকেই তাদের জীবিকা
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৯ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১০:৫০
জেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকার পানি প্রতিদিনই কমছে। পানি কমার সাথে সাথে মাছের পাশাপাশি লোকজন আহরণ করছেন শালুক। এই শালুক এক সময়ে হাওর এলাকার গরীবের খাবার হলেও এখন ধনীরাও শখ করে কিনছেন। আবার বিদেশে থাকা স্বজনদের জন্যও এই শালিক প্রেরণ করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন শালুকদের দাম বেড়ে গরীবের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে শালুক আহরণকারীরা ভাল দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। জানা যায়, জেলার বানিয়াচং, আজিমরীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার একাংশের হাওর এলাকা বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকে। এ সময় শাপলা, শালুক, পানিফলসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদে হাওর পরিপূর্ণ থাকে। বর্ষা শেষে শরত এবং হেমন্তের পরে সংগ্রহ করা হয় শালুক, শাপলার ডেপ, পানিফলসহ বিভিন্ন ধরনের মজাদার ফল। এর মধ্যে শালুক খুবই জনপ্রিয়। বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা গ্রামের কৃষক নুর আলী জানান, বোরো ফসলের জন্য জমির আগাছা পরিস্কার করার সময় শালুক এবং পানি ফল আহরন করা হয়। বাজারে এই ফলের চাহিদা থাকায় তারা এসব সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। পাইকারী হিসাবে ২০/৩০ টাকা কেজি হিসাবে শালুক বিক্রি হয়। খুচরা বাজারে ৪০/৫০টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।
একই গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুর রহমান জানান, গ্রামে অভাবের সময় অতিদরিদ্র শ্রেণীর মানুষ বিল থেকে শালুক তুলে এনে সিদ্ধ করে ভাতের বিকল্প হিসেবে খায়। আবার বাজারে নিয়ে বিক্রি করে। হাওর থেকে সংগ্রহীত শালুক পাইকরারা কিনে এনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে। হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন হাট বাজারের বাহিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভ্যান নিয়েও বিক্রি করা হয় এই ফল। হবিগঞ্জ জেলায় শালুকের অন্যতম পাইকারী বাজার মাধবপুর উপজেলায়। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবারে এর বাজার বসে। পার্শ্ববর্তী জেলা মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের ব্যবসায়ীরা শত শত মণ শালুক নিয়ে আসে মাধবপুরে। পাইকারদের হাতবদল হয়ে সেই শালুক চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ কুমিল্লা, সরাইল, ভৈরব, নরসিংদী, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাদের কাছে।

