ক্যাসিনোকাণ্ডে জাড়িত ২ ভাই সহদর গ্রেপ্তার

ক্যাসিনোকাণ্ডে জাড়িত ২ ভাই সহদর গ্রেপ্তার

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৩ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৮ঃ৩৫

ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত আলোচিত দুই ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। এরআগে ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিআইজি ইমতিয়াজ বলেন, গত সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও অর্থ জব্দের পর তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৯টি মানিলন্ডারিং আইনে দায়ের হওয়া মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। ৯টির মধ্যে চারটি এজাহারে এ দুই জনের নাম রয়েছে। মামলার তদন্ত করে আমরা তাদের গ্রেপ্তার করি। তিনি আরও বলেন, সিআইডির তদন্ত ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সম্পত্তির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দু’জনের মোট ২২টি স্থানে জমি ও বাড়ি রয়েছে, যার অধিকাংশই পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক। এছাড়া সারাদেশে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ৯১টি অ্যাকাউন্টে তাদের মোট ১৯ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ব্যক্তিগত পাঁচটি গাড়িও রয়েছে তাদের।

তাদের বাড়িতে অভিযানের সময় পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। আমরা জানতে পেরেছি, সেগুলো ব্ল্যাকমানি। দেশের বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে তারা সেগুলো রেখেছিল। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলেও তিনি জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডি কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, যখন তাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় (সেপ্টেম্বর ২০১৯) তারা সেখান থেকে পালিয়ে কক্সবাজার চলে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বোটে অবৈধভাবে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পাড়ি জমানোর। তবে সেখানে যেতে ব্যর্থ হয়ে নেপালে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তারা। এজন্য তারা ঢাকায় এসে কেরানীগঞ্জে মোস্তফা নামের এক সহযোগীর বাড়িতে অবস্থান করছিল। সেখান থেকে বেনামি পাসপোর্ট তৈরি করে ইন্ডিয়া হয়ে নেপাল যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তারা। তারা বেনামি পাসপোর্ট ও ইন্ডিয়া হয়ে নেপাল যাওয়ার জন্য মোট ৪০ লাখ টাকা সঙ্গে রেখেছিল। তাদের গ্রেপ্তারের সময় ওই ৪০ লাখ টাকা ও ১২টি মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা জেনেছি এনামুল ও রূপন- দু’জনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে ক্যাসিনো ব্যবসার গোড়াপত্তন হয়। নেপালিদের মাধ্যমে তারা ক্যাসিনোর সরঞ্জাম বাংলাদেশে এনেছিল। এনামুল ওয়ান্ডারার্স ক্যাসিনো ক্লাবের পরিচালক ছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দলীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশকিছু নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশের পরপরই গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদে রদবদল আসে। এর তিন দিন পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এরপর ধানমন্ডি, কলাবাগানসহ উত্তরা, গুলশান, তেজগাঁওয়ের বেশকিছু ক্লাবে একই ধরনের অভিযান চালায় পুলিশ ও র‌্যাব। এসব অভিযানে ক্যাসিনো সামগ্রীসহ প্রচুর পরিমাণে মদ ও অবৈধ অর্থ উদ্ধার করা হয়। অভিযানগুলোতে যুবলীগের কয়েকজন নেতাসহ বেশকিছু ক্লাবের সংগঠককে ক্যাসিনোতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading