ছত্রাক দিয়ে চাঁদ-মঙ্গলে বাড়ি বানাবে নাসা
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৫ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৬ঃ১০
অনেক দিন আগেই নাসা থেকে ঘোষণা এসেছে যে, চাঁদ-মঙ্গলে বাড়ি বানাবে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে সবার একটাই প্রশ্ন কি দিয়ে চাঁদে বাড়ি বানাবে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি জানা গেল তার উত্তর। ইট, সিমেন্ট, বালি কিংবা চুনসুরকি দিয়ে নয় নাসা ঘরবাড়ি বানাবে ছত্রাক দিয়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারে ‘মাইকো-আর্কিটেকচার প্রজেক্টে’র প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর লিন রথ্সচাইল্ড ইন্ডিয়ার ‘আনন্দবাজার ডিজিটাল’কে এ কথা জানিয়েছেন। মানুষের সঙ্গে সেখানে থাকবে অন্য জীবও। যারা বাঁচার প্রয়োজনে শুষে নেয় সৌরশক্তি। আর তা দিয়ে জল ও বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে বদলে দেয় অক্সিজেনে। কার্যত বায়ুমণ্ডলহীন চাঁদ, মঙ্গলে আমাদের শ্বাসের বাতাস হয়ে উঠবে সেই অক্সিজেনই। জল ও বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে ভেঙে সেই অণুজীবরা বানাতে পারে আরও কিছু পদার্থ। যা খেয়েদেয়ে তারা বেঁচে থাকবে। তাই এদের ‘সায়ানোব্যাকটেরিয়া’ও বলা হয়।
মাইকো-আর্কিটেকচার প্রজেক্টে’র অন্যতম বিজ্ঞানী, নাসার সদর দপ্তরে ‘পাথফাইন্ডার মিশন’-এর সদস্য অমিতাভ ঘোষ বলেছেন,‘সভ্যতার ওই নতুন বসতি বানাতে আমাদের গবেষণা একেবারেই অভিনব পথে এগচ্ছে। এর আগে চাঁদে, মঙ্গলে আমাদের বসতি বানানোর কথা অন্য ভাবে ভাবা হয়েছিল। কচ্ছপের মতো। কচ্ছপ যেমন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পিঠে করে নিয়ে যায় তার আস্তানা গড়ার মালমশলা, এমনকী, খোদ আস্তানাটাকেই নিয়ে যায় পিঠে চাপিয়ে, এত দিন আমরা তেমন ভাবেই ভেবেছিলাম চাঁদে আর মঙ্গলে আমাদের বসতি বানানোর জন্য। কিন্তু মুড়ে নিলেও সেই ভারী বসতিকে পিঠে চাপিয়ে চাঁদ বা মঙ্গলে পৌঁছনোর জন্য অতটা দূরত্ব পাড়ি দিতে হলে বিপুল পরিমাণে শক্তির প্রয়োজন। তাতে জ্বালানির খরচ তো বাড়েই, বাড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। জ্বালানি যতটা সম্ভব কম খরচ করাটাই তো এখন সকলের লক্ষ্য।’ আর তাই ছত্রাক বেছে নিয়েছেন তারা। যা অসম্ভব অন্যসব বস্তুর তুলনায় হাল্কা।

