কাঠবিড়ালীর প্রশংসায় শোবিজাঙ্গন
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৮ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১২:৩৬
অনেকেরই মত, দিন দিন বাংলা চলচ্চিত্র রশা তলে যাচ্ছে। যারা হরহামেশাই এ কথা বলে থাকেন, তাদের জন্য একটি কথা। গতকাল থেকে হলে চলছে নিয়ামুল মুক্তার কাঠবিড়ালী। যান গিয়ে দেখে আসুন। ছবিটি দেখে এতটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, তরুণদের হাতে বাংলা চলচ্চিত্রের বইঠা থাকলে, এ চলচ্চিত্র এগিয়ে যাবে বহুদূর। গতকাল (১৭ জানুয়ারি) সারাদেশের প্রায় ১৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তরুণ নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তার কাঠবিড়ালী। এতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন নবাগত আসাদুজ্জামান আবীর। মুক্তির প্রথম দিনই রাজধানীর একটি সিনেপ্লেক্সে ছবিটি উপভোগ করেন শোবিজাঙ্গনের অনেক তারকারা। তাদের সবার মুখেই শোনা যায় কাঠবিড়ালীর প্রশংসা। জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা ছবিটি দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কাঠবিড়ালীর প্রশংসা করে লেখেন, ‘আসলে কিভাবে কী লিখবো ঠিক বুঝতে পারছিনা। কারণ, মানুষ যখন সত্যিকারের মুগ্ধ হয়, তখন সে তার অনুভূতি লেখা দিয়ে প্রকাশ করতে পারে কম। এটলিষ্ট আমি পারিনা। দেখে এলাম নিয়ামুল মুক্তার কাঠবিড়ালী। পরিচিত গল্প, দেখতে দেখতে ভাবছিলাম এই হবে সেই হবে, সবই ঠিকঠাক হচ্ছিল। কিন্ত পরিচালক শেষে আমাকে একদম স্তম্ভিত করে দিলেন তার গল্পের টুইষ্টিং এ। আমি বোদ্ধা না, আর সিনেমা দেখে দোষ ধরাও আমার কাজ না। যারা একটা সিনেমা দেখেই সাথে সাথে ভুল ধরার জন্য মুখিয়ে থাকেন, সেইসব মানুষদের থেকে অনেক হাত দূরেই থাকতে চাই। কারণ,পরিচালক অনেক কষ্ট করে সিনেমা বানান, আর প্রোডিউসার অনেক শ্রম দিয়েই টাকা লগ্নি করেন। নিয়ামুল মুক্তা, সত্যি আমি মুগ্ধ। পুরোটা ছবিতে আমি শুধু আপনার যত্ন, কষ্ট আর ভালোবাসাই দেখেছি। কোন ভুল দেখতে পাইনি সত্যি!! এত্ত সুন্দর আর সাবলীল মেকিং। স্যালুট আপনাকে। অজস্র ধন্যবাদ।’
রুম্মন রশিদ খান লিখেছেন, ‘সত্যি বলতে, কাঠবিড়ালী নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র প্রত্যাশা ছিল না। দেশের ছবি দেখি, দেখতে হয়-এজন্যই পরিবার নিয়ে টিকেট কেটে দেখতে এসেছিলাম। তবে…..শেষ দৃশ্য নেমে যাবার পর আমার ভেতর যে অজস্র অনুভূতি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল, তার সত্যিকার অর্থে কোনো ভাষা নেই।
এতটকু বলতে পারি, ‘কাঠবিড়ালী’ ছবির প্রতিটি ফ্রেমে আমি একটি টিমওয়ার্ক পেয়েছি। একজন নির্মাতার সততা, সাহস পেয়েছি। কাহিনী ও সংলাপে এতটা সাহসীকতা খুব একটা দেশীয় ছবিতে দেখা যায় না। যথাযথ বাজেট পেলে কী খেল’টাই না দেখাতে পারতেন পরিচালক; নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তাকে সিনেমা দেখার আগে কখনো দেখিনি। হল থেকেই বেরিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। এমন নির্মাতাদেরই তো সিনেমার পর্দায় দাপিয়ে বেড়ানো উচিত। হাসতে খেলতে কী একটা ছন্দময় সাহসী কবিতা দেখিয়ে দিলেন আমাদের, দেখবার আগে বিলক্ষণ ধারণা করতে পারিনি।’
সাংবাদিক পান্থ আফজাল লিখেছেন, অনেকটা অনাগ্রহ নিয়েই ‘কাঠবিড়ালী’ দেখতে সিনেপ্লেক্স গিয়েছিলাম। মাথার মধ্যে একটাই ভাবনা ছিল, নাটকের জনপ্রিয় এত্ত ডিরেক্টর বা ভাই-ব্রাদাররা তো অনেক কিছুই বানালো, দেখলাম; নিয়ামূল মুক্তা আর এমন কি বানাবে! তবে বিশ্বাস করেন, ছবিটি শুরু হবার পর একচুলও এদিক-সেদিক করতে মন চাইছিল না। চমৎকৃত হয়ে গেলাম ছোটপর্দায় থেকে আসা নিয়ামূল মুক্তার বড় কাজ দেখে! কি অসাধারণ স্টোরি টেইলিং, কালার, ফটোগ্রাফি, ড্রোনসহ প্রতিটি শট, লোকেশন বৈচিত্র্য, সিনেমাটোগ্রাফি, আবহ মিউজিকসহ ছোট ছোট সব কাজ! তিনটি গান ও ভিডিও পর্দায় চোখ আটকে রাখার মতো! আর কাস্টিং ছিল পারফেক্ট, ভালো ছিল তাদের প্রত্যেকের অভিনয়। গ্রামীণ আবহে এতো লোকেশন বৈচিত্র্যতা আমার মনে হয় তেমন করে বেশীরভাগ নির্মাতা দেখাতে পারেননি। কাজল , হাসু , আনিস , আজগরসহ আনিসের বৌ, শিল্পী সরকার অপু প্রত্যেকে তাদের সেরাটা দিয়েছে। সকল নির্মাতা- অভিনয়শিল্পীসহ মিডিয়া সংশ্লিষ্ট সবাইকে ছবিটি দেখা দরকার। সুস্থ ও সুন্দর গল্পের ছবি উপহার দেবার জন্য কাঠবিড়ালী টিমকে ধন্যবাদ। বাজেট যেমনই হোক, সৎ সাহস আর ভালো টিমওয়ার্ক থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব। শুভকামনা নিরন্তর…
২০১৭ সালের মার্চে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার গজারমারা গ্রামে পরিচালকের বাড়িতে সিনেমার শুটিং শুরু হয়। স্পর্শিয়া-আবীর ছাড়া আরো অভিনয় করেছেন সাঈদ জামান, শাহরিয়ার ফেরদৌস, শিল্পী সরকার, হিন্দোল রায়, এ কে আজাদ, তানজিনা রহমান। চিত্রনাট্য রচনা করেছেন তাসনিমুল তাজ।

