নৈতিকতাহীন উন্নয়ন অর্থহীন হতে পারে: দুদক চেয়ারম্যান
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ৩০ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৮:৩০
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমাজের সব স্তরে নৈতিক মূল্যবোধ আরও বিকশিত করতে চায়। এজন্য বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে দুদক। কারণ, নৈতিক মূল্যবোধহীন উন্নয়ন কোনও কোনও ক্ষেত্রে অর্থহীন হয়ে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ফ্রাঙ্ক করটেডা’র নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে দুদক ও অক্সফামের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গতিশীল ও কার্যকর করার কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘শুধু অক্সফাম নয়, জিও-এনজিও সবার সক্রিয় অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করি।’ তিনি বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি পরিষেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে দুদক দেশব্যাপী গণশুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেবাগ্রহীতা নাগরিকদের মাঝে মিথস্ক্রিয়া যেমন হচ্ছে, তেমনই সরকারি কর্মকর্তারাও তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হচ্ছেন। জনগণের কাছে তাদের প্রত্যক্ষভাবে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। জনগণই যে রাষ্ট্রের মালিক, সেটা প্রত্যক্ষভাবে অনুধাবন করা যাচ্ছে। আমরা চাই, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সেবাগ্রহীতা নাগরিকদের ‘স্যার’ সম্বোধন করবেন।’
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুদক ও অক্সফাম যৌথ অংশীদারিত্বে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর ও দৃশ্যমান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে। জনগণের দুর্নীতিবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষাই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।’ দেশের ২৬ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অক্সফাম বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদকের এই কর্মপ্রক্রিয়ায় অক্সফামের অংশগ্রহণে আমরা খুশি। দুদক এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ গ্রোথিত করার চেষ্টা করছে।’
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—দুদকের প্রশিক্ষণ ও আইসিটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম সোহেল, অক্সফামের কান্ট্রি ডিরেক্টর দীপঙ্কর দত্ত, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মাহফুজা আক্তার ও সিনিয়র ইনফ্লুয়েনসিং অফিসার মেহবুবা ইয়াসমিন।

