কূটনীতিকরা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ না মানলে বাংলাদেশ ছাড়ুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ৩০ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৭:১৭
কূটনীতিকরা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ না মেনে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তবে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ মেনে চলতে না পারলে তাদের দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকদের তৎপরতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন। সিটি নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন আদর্শ হবে। প্রধানমন্ত্রী চান, যেন সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন হয়। সিটি নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিক দফায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফ করা হয়। এরই মধ্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানিয়েছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় ব্রিটিশ সরকার। অন্য কূটনীতিকরাও সিটি নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনীতিকরা তাদের নিজেদের কাজ বাদ দিয়ে আমাদের ডোমেস্টিক ইস্যুতে নাক গলাচ্ছেন। এটা কোনোভাবেই উচিত নয়। তারা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ মেনে কাজ করবেন বলে আমরা আশা করি। মন্ত্রী আরও বলেন, যারা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ মানবেন না, তাদের বলব— বাংলাদেশ থেকে চলে যান। # ক্যাসিনোকাণ্ড: ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ ৩ জনকে দুদকে তলব আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের সাথে যুক্ত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান কর্মকর্তা সাজ্জাদুল ইসলামসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অপর দুইজন হলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের এপিএস আবুল কালাম আজাদ এবং টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক খোরশেদ আলম। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে পাঠানো পৃথক নোটিশে তাদেরকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য জানিয়েছেন। তলবের নোটিশে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, ঠিকাদার জি কে শামীমসহ অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের শত শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্যাসিনো ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জন করে বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আপনার বক্তব্য রেকর্ড করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এখন পর্যন্ত ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০টি মামলা করেছে সংস্থাটি। ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রায় ২০০ জনের তালিকা ধরে অনুসন্ধান করছে দুদক।

