২১ ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণ

২১ ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণ

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ২০ঃ১৫

কক্সবাজারের টেকনাফে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ২১ ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছে। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফ ডিগ্রি কলেজ মাঠে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে তারা। কক্সবাজার জেলা পুলিশ আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যারা আত্মসমর্পণ করে তারা হলো- টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল গ্রামের ফকির আহমদের ছেলে নুর মোহাম্মদ, নুর কবিরের ছেলে ইমাম হোসেন, হোয়াইক্যং উত্তরপাড়ার মৃত আব্দুর শুক্কুরের ছেলে ফরিদ আলম, মহেশখালীয়াপাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে শাহাদাত হোছাইন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার বাসিন্দা হাজী ফজল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ রিদওয়ান ও তার ভাই আব্দুর রাজ্জাক, সুলতান আহমদের ছেলে বশির আহমদ, মৃত আমির হোসেনের ছেলে ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুল আমিন আবুল, মৃত লাল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম, মৌলভীপাড়ার ছৈয়দ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল ওরফে হাজি রাসেল, রুহল আমিনের ছেলে ফজল করিম, সাবরাং ইউনিয়নের লেজির পাড়ার মৃত হাজী মকতুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ইদ্রিস, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী পাড়ার জহির আহমদের ছেলে আবু তৈয়ূব ওরফে মধু, মাঠপাড়ার ফজলুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ জাহেদ, খয়রাতি পাড়ার আবুল কালাম সওদাগরের ছেলে মোহাম্মদ সাদ্দাম, টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়ার মৃত কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুল নূর, লামার বাজারের আব্দুল জলিলের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাঈল, সাবরাং ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার মৃত ছৈয়দুর হোসেনের ছেলে আব্দুল গফুর, সাবরাং সিকদারপাড়া আমির হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন কালু, হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামোরি কোনারপাড়ার আবুল কালামের ছেলে মিজানুর রহমান।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারিদের কাছ থেকে ২১ হাজার পিস ইয়াবা, দেশীয় ১০টি এলজি, ৩০টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারিদের সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করে কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেছেন, ‘সোমবার দুপুরে ২১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করছে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ফলে মাদক নির্মূলে পুলিশ জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছে।’

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সোমবার বিকাল ৩টার দিকে টেকনাফ সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মাদক ব্যবসায়ীদের আনা হয়। তাদের দেখতে শত শত মানুষ ভীড় করেন। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইমস) মো. জাকির হোসেন খান, জেলা পুলিশ নুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, কমিউনিটি পুলিশিং কক্সবাজার জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ বাহাদুর, টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি নুরুল হুদাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৯ মাদক কারবারি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ছয় জন রোহিঙ্গা। এর আগে ২০১৮ সালের মে থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বিশেষ অভিযানে ৫৬ রোহিঙ্গাসহ ২০৯ জন ইয়াবা কারবারি ও ডাকাত-সন্ত্রাসী নিহত হয়। গত বছর (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রথম ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করে। টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে ইয়াবা ট্যাবলেট ও অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল তারা। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে একজনের মৃত্যু হলে ১০১ জন আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading