বিটিআরসির সাবেক ৩ চেয়ারম্যানসহ ৬ জনকে দুদকের তলব
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১০:০০
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক তিন চেয়ারম্যানসহ ছয়জন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তদন্ত টিমের প্রধান ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের স্বাক্ষর করা চিঠিতে বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের হাজির হতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সমকালকে ওই তথ্য জানিয়েছেন দুদকের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা। তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।
বেআইনিভাবে আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট পরিবর্তন করে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের সুবিধা দিয়ে সরকারের ৯ হাজার ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগে ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছিল গত বছরের ৩ ডিসেম্বর।
আদালতে চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত পর্যায়ে অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য গ্রহণের জন্য তাদের তলব করা হয়েছে।
আগামীকাল যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন, বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান ও দুদকের সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, বিটিআরসির সাবেক সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের ও সাবেক কমিশনার মো. আমিনুল হাসান।
ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়, ১ বছরের জন্য অস্থায়ী এবং পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত প্রতি কল মিনিট টার্মিনেশন রেট শূন্য দশমিক শূন্য ৩ মার্কিন ডলারের স্থলে শূন্য দশমিক শূন্য ১৫ মার্কিন ডলার, সরকার/বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিং ৫১.৭৫ শতাংশের স্থলে ৪০ শতাংশ, আইজিডব্লিউ অপারেটরের রেভিনিউ শেয়ারিং ১৩.২৫ শতাংশের স্থলে ২০ শতাংশ বর্ণিত পরীক্ষামূলক ১ বছর রাখা হয়। গত ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত মোট ২৮ মাস বেআইনিভাবে বহাল রাখা হয়েছিল।
রেভিনিউ শেয়ারিংয়ে কম-বেশি করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয় ৩৮৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, কম রেটে কল আনায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয় ২৯৪১ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বা দেশে আনয়নের জন্য সরকার কর্তৃক নিয়ম মোতাবেক যে কল হার নির্ধারিত ছিল তা বিদেশ হতে দেশে আনয়ন না করায় রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় ৭২ কোটি ১০ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫,৬৮৫ কোটি ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
তাতে দেখা যায়, বিটিআরসি কর্তৃপক্ষের বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্নভাবে রাষ্ট্র সর্বমোট ৯ হাজার ১০ কোটি ৭৪, লাখ ৪৮ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯/৪১৮ ধারা, ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইউডি/কেএস

