বাস মালিক নেতা এনায়েত উল্লাহর ‘চাঁদাবাজি’ অনুসন্ধানে দুদক
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৭ঃ৪১
পরিবহন মালিক সমিতি ও আওয়ামী লীগের নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ আশপাশের সড়কে চলা বাস থেকে প্রতিদিন এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্সদ নূরুল হুদা সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে চিঠি দিয়েছেন।
দুদকের চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী প্রায় ১৫ হাজার বাস থেকে দৈনিক এককোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়সহ শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে এনায়েত উল্লাহ, তার স্ত্রী নার্গিস সামসাদ, মেয়ে চাশমে জাহান নিশি ও ছেলে রিদওয়ানুল আশিক নিলয়ের নামে নিবন্ধিত যানবাহনের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে ‘চাঁদাবাজিসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ অনুসন্ধানে দুদকের উদ্যোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এনায়েত।
বাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সংগঠনে যেসব চাঁদাবাজ ছিল তাদেরকে একবছর আগেই বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাসহ অন্যান্য জায়গায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে আসছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার এনায়েত মালিকানাধীন এনা পরিবহনের বাস ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে।
গত ১ অক্টোবর ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগের’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে এনায়েতের বিরুদ্ধে ঢাকার পরিবহন থেকে ‘দৈনিক প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির’ অভিযোগ করেন সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন বাচ্চু। এর প্রতিবাদে গত ২৭ অক্টোবর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এনায়েত বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা। ঢাকায় এত টাকা চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই। আর সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ উল্টো ইসমাইল হোসেন বাচ্চুকেই ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দেন।

