যুবাদের বিশ্বকাপ জয় মুজিববর্ষে জাতির জন্য উপহার: প্রধানমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৭ঃ৪১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের আইসিসির অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপর জয়কে মুজিববর্ষে জাতির জন্য উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, দলটি দেশে ফিরে আসার পরে এই দুর্দান্ত সাফল্যের জন্য তাদেরকে একটি বিশাল সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
তরুণ টাইগাররা রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ আফ্রিকার পটচেস্টরুমের সেনউইস পার্কে টুর্নামেন্টের ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে তিন উইকেটে পরাজিত করে আকাঙ্খিত ট্রফি জয় করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের আইসিসির অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ট্রফি জয় করাটা মুজিব বর্ষে জাতির জন্য একটি উপহার।’ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা স্মরণ করেন, ১৯৯৭ সালে আইসিসি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘যখনই বাংলাদেশ দল কোন ট্রপি জিতেছে, আমরা তাদের সংবর্ধনা দিয়েছি। আমরা আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ দলকেও জমকালো সংবর্ধনা দেব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে গত চার বছর কঠোর পরিশ্রম করেছে। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরমেন্সের মাধ্যমে তারা পরিশ্রমের সুফল পেয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দল চার বারের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলকে হারিয়েছে। তাদের (বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের) অনেক সাহস আছে এবং তারা ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে।’
মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশ দলের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ বিজয়ের উৎসব পালনের জন্য একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জনের জন্য সকলকে আরো বেশি কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমার প্রস্তাব হচ্ছে এই খুশিতে সবাইকে একদিন বা একঘণ্টা বেশি কাজ করতে হবে।’
এই ইস্যুতে একজন মন্ত্রী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের ঘটনাকে বাংলাদেশের খেলাধূলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের খেলাধূলার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।’ মন্ত্রী আরো বলেন, দলনায়ক আকবর আলি টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে তার পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে কিভাবে সংকটপূর্ণ সময়ে মোকাবেলা করতে হয়ে তা তার থেকে শেখার আছে। আমাদের সবাইকেই সংকটের সময়ে তা থেকে উত্তরণের জন্য এভাবেই চেষ্টা চালাতে হবে।’
তিনি আকবরের এই ম্যাচ উইনিং ইনিংসটিকে কুয়ালালামপুরের ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফিতে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে আকরাম খানের সেই স্মরণীয় ব্যাটিংয়ের সাথে তুলনা করেন।

