সচিব জিলালের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

সচিব জিলালের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৭ঃ৪১

ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) জিলাল হোসেন। প্রবাসী শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্ব থাকলেও সেদিকে নজর নেই তার। জনশক্তি কোম্পানিগুলোর কর্মকাণ্ড তদারকি করাও তার কাজ। কিন্তু এসব না করে নামসর্বস্ব ও কাগুজে প্রতিষ্ঠান খুলে নিজেই জনশক্তি রফতানিতে জড়িয়ে পড়েছেন। শ্রমিক নিবন্ধনে অতিরিক্ত টাকা আদায়, হাইকমিশন ভবনের নকশা প্রণয়নে ২০ লাখ টাকা খরচ করে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করাসহ নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। জিলাল ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড ও অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এই তদন্ত চলছে। দুদকের অনুসন্ধান ও মন্ত্রণালয়ের তদন্তে জিলালের কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য বেরিয়ে আসছে।

দুদক সূত্র জানায়, জিলাল হোসেন ও তার সহযোগীদের দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে অভিযোগ জমা হয় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। বেলাল হোসেন ও আবদুল জব্বার নামে দুই ব্যক্তি দুদকে ওই অভিযোগ জমা দেন। যাচাই-বাছাই ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। এরই অংশ হিসেবে গত ২৭ জানুয়ারি জিলাল ও তার সহযোগীদের বিষয়ে জানতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দুদক। চিঠিতে তদন্ত পূর্বক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দুদকে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খানের সই করা চিঠিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজার কাছে পাঠিয়েছে দুদক।

মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, চিঠি পাওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সূত্র জানিয়েছে, ৩০ কার্যদিবসের আগেই তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দুদকে জমা দেওয়া হবে। দুদক ও মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জিলালের বিরুদ্ধে ওঠা ১০টি অভিযোগ পৃথকভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে দুদক ও মন্ত্রণালয়। দুদকের দাবি, এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যাচ্ছে।

২৭তম বিসিএস (প্রশাসন) কর্মকর্তা জিলাল হোসেন সিন্ডিকেট তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের অনুসন্ধান ও মন্ত্রণালয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসছে। দুদক ও মন্ত্রণালয় জিলালের অন্যতম সহযোগী হিসেবে হাইকমিশনের লেবার উইংয়ের কর্মকর্তা (দোভাষী) মো. আবু নাঈমকে চিহ্নিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবু নাঈমের বিরুদ্ধে ঢাকায় একটি ধর্ষণ মামলা আছে। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়ে আছে। হাইকমিশনের ভেতরে প্রবাসী নির্যাতনের অভিযোগও আছে এই আবু নাঈমের বিরুদ্ধে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading