ঢাকায় ৩ মাসে হোটেল বিলই ৩ কোটি টাকা!

ঢাকায় ৩ মাসে হোটেল বিলই ৩ কোটি টাকা!

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৯ঃ৩৯

‘২০১৯ সালের নভেম্বরে হোটেল ওয়েস্টিনের ২১তলার প্রেসিডেন্ট কক্ষটি ভাড়া নেন পাপিয়া। গত তিন মাসে ওই কক্ষের ভাড়া পরিশোধ করেছেন প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। ওই হোটেলেল ১৯তলায় একটি বার রয়েছে, যেটি তিনি পুরোটাই বুক করে নিতেন। সেখানে প্রতিদিন তিনি আড়াই লাখ টাকা মদের বিল পরিশোধ করতেন। সব মিলিয়ে দেখা যায়, গত তিন মাসে তিনি প্রায় ৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেছেন হোটেল কর্তৃপক্ষকে।’- কথাগুলো বলছিলেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন এ সব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সম্প্রতি প্রতারণা, অবৈধ অর্থপাচার, জাল টাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানী থেকে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে জাল টাকা ও ডলারসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ওই চারজন হলেন- শামীমা নুর পাপিয়া (২৮), তার স্বামী মফিজুর রহমান (৩৮), মফিজুরের পিএস সাব্বির খন্দকার (২৯) ও পাপিয়ার পিএস শেখ তায়্যিবা (২২)।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, ‘র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যে জানতে পারি, একটি প্রতারক চক্র বেশ কিছুদিন ধরে অনৈতিক কাজের আড়ালে মাদক ব্যবসা, অর্থপাচার, জাল টাকার ব্যবসা, জিম্মি করে টাকা আদায়সহ নানান অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। পরে খোঁজ করে একটি চক্রকে শনাক্ত করতে পারি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নয়াদিল্লিতে যাওয়ার সময় বহির্গমন গেট থেকে চক্রের দুই সদস্য মফিজুর ও সাব্বিরকে আটক করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিন থেকে দুই নারী প্রতারক পাপিয়া ও তায়্যিবাকে আটক করা হয়। এদের নামে অর্থপাচার মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।’

শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, ‘পাপিয়ার আয়কর ফাইল তলব করে দেখা যায়, সেখানে তিনি বছরে ২২ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। অথচ তার প্রতিদিন বারের বিলই আসে আড়াই লাখ টাকা। এত টাকার উৎস কোথায়? জানতে চাইলে পাপিয়া জানিয়েছেন, যারা হোটেলে আসত তাদের কাছে মেয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এরপর অশ্লীল ভিডিও তুলে ওইসব ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হতো। লোক লজ্জার ভয়ে কেউ মুখ খুলতো না। এরকম সাতজন উঠতি বয়সী তরুণীর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। যাদেরকে মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিত সে। বিনিময়ে তাদের ব্যবহার করা হতো। কেউ রাজি না হলে তাদের লাঠি দিয়ে পেটাতেন পাপিয়া। আবার কোনো কোনো মেয়ের অশ্লীল ছবি বড়লোক কাস্টমারদের ফোনে পাঠিয়ে দিয়ে লোভ দেখিয়ে আগ্রহ তৈরি করতেন। এরপর ওই লোকগুলো এলে তাদের জিম্মি করা হতো।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading