এক মাসে ৭৫ কোটি টাকার মাদক জব্দ!
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০১ মার্চ ২০২০ । আপডেট ২০ঃ২০
দেশে অবৈধ মাদকের চাহিদা ও তা যে সাপ্লাই যে বন্ধ হয়নি তা প্রমাণিত হয়- বিজিবির সর্বশেষ মাদক ও চোরাকারবারী নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চলতি বছরের শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই ৭৫ কোটি ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালানী পণ্য ও মাদক দ্রব্য জব্দ করেছে। দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। একই সময়ে বিজিবি’র অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০৩ জন চোরাচালানীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে শুধু যে বিজিবি সদস্যরাই মাদক ও চোরাই পথে আসা অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে তা নয়। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দামক নিয়ন্ত্রণে অভিযান, মাদক জব্দ ও এর সঙ্গে জড়িতদের আটক করেছে। এক মাসে তারা কত পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে সেই তথ্য পাওয়া না গেলেও তা অনুধাবন করতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় সচেতন মহলের। তবে এর পরও যে মাদক ও চোরাকারবারী বন্ধ হয়ে গেছে তা বলার সুযোগ নেই। বরং সেটি আদৌ বন্ধ করা সম্ভব কিনা সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০ হাজার ৪৯৪ বোতল ফেনসিডিল, ১০ হাজার ৪৭১ বোতল বিদেশি মদ, ৭৮৮ লিটার বাংলা মদ, ৯৮৬ ক্যান বিয়ার, ৮৫৭ কেজি গাঁজা, ১ কেজি ২৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৭৩টি ইনজেকশন, ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৭টি অন্যান্য ট্যাবলেট এবং ৯৮৪টি এ্যানেগ্রা/সেনেগ্রা ট্যাবলেট।
জব্দকৃত অন্যান্য দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৬ কেজি ১৪ গ্রাম স্বর্ণ, ১০১ কেজি ৭৫ গ্রাম রুপা, ৪ হাজার ৯৩২টি ইমিটেশন গহনা, ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮৪টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৯৬৫টি শাড়ি, ৯৬৪টি থ্রিপিস/শার্টপিসসহ অন্যান্য সামগ্রী ও উপকরণ। সেই সঙ্গে ২টি পিস্তল, ১টি বন্দুক, ৪টি বিভিন্ন প্রকার গান এবং ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০৩ জন চোরাচালানীকে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৫৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ৭৩ জন ভারতীয় নাগরিককে আটকের পর ৭ জনকে থানায় সোপর্দ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ৬৬ জনকে ইন্ডিয়ায় ফেরত প্রদান করা হয়েছে।

