করোনার উপসর্গ: ২ প্রবাসীসহ মৃত্যু ৩

করোনার উপসর্গ: ২ প্রবাসীসহ মৃত্যু ৩

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২২ মার্চ ২০২০ । আপডেট ১৯ঃ৩২

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্ডিয়া ফেরত একজনসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মত উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা না হওয়ায় নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকরা। অপরদিকে, সিলেটে প্রবাসী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে সেটি করোনায় মৃত্যু কিনা এ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, ওই দু’জনের মধ্যে একজনের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলায়। ৪৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বৃহপতিবার বেলা ১টার দিকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা ও কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং রাত সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয়। আরেকজনের বাড়ি নড়াইলে। তিনি এক সপ্তাহ আগে ইন্ডিয়া থেকে বাড়ি ফেরেন। এরপর তার মধ্যে করোনাভাইরাসের উসর্গ দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এর পর গত বৃহস্পতিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পর তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের পরিচালক মঞ্জুর বলেন, ওই দুজনের করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল। কিন্তু পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের পরিবারের লোকজনকে ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ থাকার পারমর্শ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২২ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক রাশিদা সুলতানা বলেন, ইন্ডিয়া থেকে ফেরা ওই ব্যক্তিকে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা চিকিৎসার কোনো সুযোগ পাইনি। তার শ্বাসকষ্ট ছিল। হার্টের সমস্যাও ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিলেটে আইসোলেশনে থাকা নারীর মৃত্যু: অপরদিকে সিলেটের একটি হাসপাতালে করোনা সন্দেহে আইসোলেশনে থাকা একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর সাড়ে ৩ টার দিকে ওই নারীর মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি সম্প্রতি ব্রিটেন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল গণমাধ্যমকে জানান, গত শুক্রবার থেকে ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। রবিবার তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের কথা ছিল। এর আগেই মৃত্যু হলো তার।

সিভিল সার্জন মণ্ডল অবশ্য বলছেন, তারপরেও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা হবে যে, করোনাভাইরাসেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা। দাফনের পরপরই তার পরিবারের সদস্যদেরও কোয়ারেন্টিনে নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ মার্চ ব্রিটেন থেকে ফেরার পর ওই নারীর জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে ২০ মার্চ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে আরও তিনজন রোগী আইসোলেশনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি ইউরোপের সাথে সব ধরণের বিমান যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করলেও ব্রিটেনের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। সেই সুযোগে ওই নারী দেশে ফিরেন।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ২৭ জনের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে আইইডিসিআর; যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ জন। অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading