শিল্পীরা কাঁটাতারের ঊর্ধ্বে: মোশাররফ করিম

শিল্পীরা কাঁটাতারের ঊর্ধ্বে: মোশাররফ করিম

উত্তরদক্ষিণ বিনোদন । ২৪ মার্চ ২০২০ । আপডেট ১১.৫০

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। সমানতালে তিনি জনপ্রিয় কলকাতাতেও। আর সেই সুবাদেই কেরিয়ারে প্রথমবারের মতো কলকাতার ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ছবির নাম নাম ‘ডিকশনারি’।

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর দু’টি গল্প, ‘বাবা হওয়া’ ও ‘স্বামী হওয়া’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এতে মোশাররফ করিম ছাড়ও অভিনয় করছেন আবির চ্যাটার্জি, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসুর স্ত্রী পৌলমী বসু ও কলকাতার সাংসদ ও অভিনেত্রী নুসরাত জাহান।

কিছুদিন আগেই ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন মোশাররফ করিম। সে সময় ছবিসহ নানা প্রসঙ্গে কথা হয় কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে। উত্তরদক্ষিণ পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির চুম্বকীয় অংশ নিচে তুলে ধরা হলো: 

প্র: এ দেশে এটিই তো আপনার প্রথম কাজ। ব্রাত্য বসু তার ছবির জন্য কী ভাবে খুঁজে পেলেন আপনাকে?

উ: ছবি, নাটকে আমার অভিনয় উনি আগেই দেখেছিলেন। তার পরে ‘কমলা রকেট’-এ দেখেই বোধহয় ‘ডিকশনারি’ ছবির জন্য আমাকে মনোনীত করেন। বাংলাদেশের এক পরিচালকের মাধ্যমে আমাকে যোগাযোগ করেছিলেন উনি, সেই সময়ে আমি মালয়েশিয়ায় ছিলাম। তার পরে তো দেখা-সাক্ষাৎ হল।

প্র: এই ‘কমলা রকেট’ ছবির জন্যই আপনি জাতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন না?

উ: দুঃখিত, এই প্রসঙ্গে কোনও কথা বলতে চাই না।

প্র: বেশ। আপনার শুরুটা কি থিয়েটার থেকেই?

উ: হ্যাঁ। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আমাদের দল ‘নাট্যকেন্দ্র’। ১৯৯১ সালে কলকাতায় এসে ‘বিচ্ছু’ নাটকটি মঞ্চস্থ করেছিলাম অ্যাকাডেমিতে। ১৫ বছর ধরে থিয়েটার করেছি টানা। তার পরে শুরু করলাম টেলিভিশন নাটক। সেখানে প্রথম যে কাজটা ক্লিক করল, সেটা হল ‘ক্যারাম’। মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী নির্দেশিত সেই টেলি-ছবিতে আমার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন তিশা।

প্র: এ দেশে প্রথম বার কাজ করছেন। কতটা আলাদা মনে হচ্ছে?

উ: পরিবেশটা আমার কাছে নতুন, মানুষজনও। তবে এরা সেটা বুঝতে দেননি। ‘ডিকশনারি’ ছবির টিমের সকলেই খুব আন্তরিক। কাজের প্রতি এবং আমার প্রতিও। আর ব্রাত্যদা পরিচালক হিসেবে খুব পার্টিকুলার। ‘টু দ্য পয়েন্ট’ কাজ করেন সব সময়ে। ছবিতে আবেগের দৃশ্যগুলোয় পরিমিতবোধ ওর কাছ থেকে শেখার মতো।

প্র: এ দেশে ফের কাজ করতে চাইবেন?

উ: নিশ্চয়ই। ভাল গল্প, ভাল চরিত্রের প্রস্তাব পেলে কেন নয়? তবে নিজে থেকে কাজ চাওয়ার বিষয়টা আমার দ্বারা হবে না! যদি কারও ভাল লাগে, আমাকে তারা নিশ্চয়ই ডেকে নেবেন।

প্র: দেব বাংলাদেশে ছবি করছেন। জয়া আহসান এখানে খুবই জনপ্রিয়। এই আদান প্রদানের ফলে ইন্ডাস্ট্রি কতটা উপকৃত হচ্ছে বলে মনে হয় আপনার?

উ: এই আদান-প্রদান তো বহুদিনের। আসলে ইন্ডিয়ার মানুষ আমাদের বেশির ভাগ কাজই দেখেন ইউটিউবে। কারণ আমাদের দেশের কোনও চ্যানেল এখানে দেখানো হয় না। তবে অনেক ইন্ডিয়ান চ্যানেলই বাংলাদেশে দেখানো হয়। ফলে অনেক ইন্ডিয়ান অভিনেতাকেই বাংলাদেশের মানুষ চেনেন, ভালবাসেন। আমাদের চ্যানেলগুলিও যদি এখানে দেখানো হত, তা হলে হয়তো দর্শকের আগ্রহ এবং আমাদের গ্রহণযোগ্যতা দুই-ই তৈরি হতে পারত।

প্র: টলিউডের এক অভিনেত্রী সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, সে দেশের জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে তার অভিনীত ছবি জিতলেও তিনি সে দেশের নাগরিক না হওয়ায় কোনও স্বীকৃতি পাননি। অথচ বাংলাদেশের শিল্পীরা এখানে পুরস্কৃত হয়ে থাকেন…

উ: পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু প্রোটোকল মানতে হয়। তবে ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, একজন শিল্পীর অভিনয় ভাল হলে তার পুরস্কার পাওয়া উচিত। তারা কাঁটাতারের ঊর্ধ্বে। হয় অভিনয় করতে দেবেন না। আর যদি দেন, তা হলে স্বীকৃতিটাও তার প্রাপ্য।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading