সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার, অন্যেরা শিক্ষা নিবেন তো!
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন: ২৮ মার্চ ২০২০ । ১৪:৪০
পিতার বয়সী তিনজন দাড়ি পাকা ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কান ধরিয়ে ‘বেআইনি ও অকর্মকর্তাসুলভ আচরণ’ করায় যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) গণমাধ্যমকে ডিসি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই কর্মকর্তাকে মনিরামপুর থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ওই কর্মকর্তা সিনিয়র সিটিজেনের সঙ্গে অমানবিক, বেআইনি ও অকর্মকর্তাসুলভ আচরণ করেছেন। আমরা তাকে প্রত্যাহার করতে ডিসিকে নির্দেশ দিয়েছি। জনপ্রশাসন সচিবের নির্দেশনার পর পরই এসিল্যান্ড সাইয়েমাকে প্রত্যাহার করে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে অফিস-আদালত বন্ধ রেখে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানায় সরকার। আর এটা বাস্তবায়ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মাঠ প্রশাসন কাজ করছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার অতি বাড়াবাড়ি ও বেআইনি কর্মকাণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি করে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ান প্রত্যাহার হওয়া ওই নারী কর্মকর্তাও।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সাইয়েমা হাসান। বিকালে চিনাটোলা বাজারে মাস্ক না পরায় তরকারি বিক্রেতা ও ভ্যানচালক তিন বয়স্ক ব্যক্তিকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে নিজের মোবাইল ফোনে সেই ছবি ধারণ করেন ওই কর্মকর্তা। রাতে ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে নেট দুনিয়ায়। সরকারি কর্মকর্তাদের ‘কাণ্ডজ্ঞান’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। বয়স্কদের সঙ্গে সাইয়েমার এই আচরণের বিচারের দাবিও উঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এমন প্রেক্ষাপটে শনিবার জনপ্রশাসন সচিব হারুন গণমাধ্যমকে বলেন, মনিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওই সিনিয়র সিটিজেনদের বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে (স্যরি) বলে আসতে বলেছি। আর এসি ল্যান্ড সাইয়েমাকে সেই তিন বয়স্ক ব্যক্তির বাড়ি যেতে নিষেধ করা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ওই কর্মকর্তা ভুল করেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, যেন অন্যরা শিখতে পারে। সব জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেউ যেন অকর্মকর্তাসুলভ আচরণ না করেন। কেউ এ ধরনের আচরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আমরা ডিসিদের দিয়েছি। বলেছি, মনে রাখতে হবে তারা মাস্টার নয়, সেবক। তারা যেন জনগণের সেবা করেন।
অবশ্য এর মাত্র কয়েকদিন আগে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসন সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় রাতের আধারে ওই সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্যাতন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ বছরের দণ্ড দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িযে পড়ার পর সেই ডিসিসহ অভিযুক্ত তিন ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহার করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতেও একটি মামলা চলমান। এরপর বিসিএস কর্মকর্তা হয়ে আরেক নারী সাইয়েমার এমন আচরণ রীতি মতো তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা, শিক্ষা ও নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে জাতির কাছে।


One thought on “সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার, অন্যেরা শিক্ষা নিবেন তো!”