এশিয়ার কোটি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

এশিয়ার কোটি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন। ৩১ মার্চ ২০২০ । ১৭:৫০

মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চীনসহ পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। মন্থর হয়ে পড়বে এসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। পোহাতে হবে ‘অপরিহার্য অর্থনেতিক দুর্দশা’। দারিদ্র্যের কবলে পড়বে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। সোমবার (৩০ মার্চ) বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনা ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১১ মার্চ পৃথিবীব্যাপী মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৭ হাজার ৮৩২ জনের। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, দ্রুত পরিবর্তনশীল এ পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংক্ষিপ্ত পূর্বাভাস দেওয়ার কাজটা খুব কঠিন। তবে চলমান পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, ২০২০ সালে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে, এমনকি তা ঋণাত্মক (মাইনাস) ০.৫ শতাংশও হতে পারে। অথচ ২০১৯ সালে এ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৮ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে প্রবৃদ্ধির গতি কমে ২.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তা সর্বনিম্ন ০.১ শতাংশ হতে পারে। ২০১৯ সালে চীনে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.১ শতাংশ।

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার পূর্বাভাস থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কমে যাবে। ২ কোটি ৪০ লাখের মধ্যে তা থমকে যেতে পারে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ পর্যায়ে পৌঁছালে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাবে এক কোটি ১০ লাখ মানুষের। বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক যন্ত্রণা এড়ানো সম্ভব নয়। সে কারণে সব দেশকে জোটবদ্ধভাবে এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসুরক্ষাজনিত সক্ষমতা খাতে এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোকে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading