বিশ্বে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮ হাজার ৯২

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮ হাজার ৯২

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন। ৩১ মার্চ ২০২০ । ১৮:৩০

নভেল করোনাভাইরাসের আঘাতে পৃথিবী লণ্ডভণ্ড। মানুষের সব বুদ্ধি, জ্ঞান আর কৌশল চোখে না দেখা এই ভাইরাসের কাছে অসহায় হার মেনেছে। পৃথিবীবাসী নিজেদের জীবনকে প্রকৃতির কাছে সমর্পন করতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩৮ হাজার ছাড়িয়েছে। ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার বিকালে আন্তর্জাতিক জরিপ পর্যালোচনাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটার এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২০০টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৮৯ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে ৩৮ হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৮ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে, সাড়ে ১১ হাজারেরও বেশি। আর আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে অবস্থান করছে মার্কিন আমেরিকা। দেশটিতে দেড় লাখের বেশি মানুষ এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে করোনায়।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ওয়ার্ল্ড ওমিটার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা মার্কিন আমেরিকায়। সেখানে মোট এক লাখ ৬৪ হাজার ৩৫৯ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৭৩ জনের। তবে মৃতের হিসাবে শীর্ষে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯১। আর আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৭৩৯ জন। মৃতের হিসাবে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ৭১৬। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৭ হাজার ৯৫৬ জন।

স্পেনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চীনে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৩০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে চীনের বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপনের অভিযোগ রয়েছে। উহানের একজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘বুদ্ধি-বিবেচনাসম্পন্ন যেকোনও মানুষ এই সংখ্যা (সরকারি পরিসংখ্যান) সন্দেহ প্রকাশ করবে।’ অভিযোগের প্রেক্ষিতে নতুন সংক্রমণ গোপন না করতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি খোয়াচিয়াম।

গত ২৩ মার্চ কর্মকর্তাদের প্রতি দেওয়া তার এ সংক্রান্ত ভাষণ পরদিন ২৪ মার্চ সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। লি খোয়াচিয়াম বলেন, স্বচ্ছতার মানে হচ্ছে নতুন কেউ আক্রান্ত হলে অবশ্যই তা রিপোর্ট করা উচিত। যা ঘটেছে তাই বলা উচিত। কোনও কিছু অবশ্যই ধামাচাপা দেওয়া হবে না। সূত্র: আলজাজিরা, সিএনএন ও রয়টার্স।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading