মসজিদে জামাতে বিধিনিষেধ, তাবলিগের কর্মকাণ্ড বন্ধ

মসজিদে জামাতে বিধিনিষেধ, তাবলিগের কর্মকাণ্ড বন্ধ

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ০৬ এপ্রিল ২০২০। ১৬:১০

মহামারি রূপ নেয়া নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ে বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার। সোমবার (৬ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ৬ এপ্রিল থেকে মসজিদে কোনও জামাতে ৫ জনের বেশি অংশ নিতে পারবেন না। আর শুক্রবার জুমার নামাজের জামাতে অংশ নিতে পারবেন সর্বোচ্চ ১০ জন।

একইসাথে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও ধর্মীয় জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদেরকেও তাদের উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেছেন, সরকারি এই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মসজিদের খতীব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ছাড়া অন্য সব মুসল্লিকে নিজ বাড়িতে নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে। সেখানে শুক্রবার জুমার জামাতে অংশগ্রহণের বদলে মুসল্লিদের নিজ নিজ বাড়িতে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ সময় সারাদেশের কোথাও ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগ জামাতের কর্মকাণ্ড বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজনও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিে বলা হয়েছে, সবাই যেন ব্যক্তিগতভাবে তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া করেন। কেউ যেন কোনও ধর্মীয় বা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের জন্য সমবেত না হন।

এদিকে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের দুটি অংশই জানিয়েছে, তারা তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে। কোনও প্রতিষ্ঠানে এই সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জনসমাগমের মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার হচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের এক ইজতেমায় বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ অংশগ্রণ করে। সেখান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পায় ইন্ডিয়া সরকার। যে কারণে, ১২ জন বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে ভিসার আইন লঙ্ঘনের দায়ে ইন্ডিয়ায় মামলা করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে দুজন করোনা আক্রান্ত। ওই ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে এনডিটিভি। আক্রান্ত হয়েছেন আরও অনেকে। পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায়ও তাবলিগের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়ার খবর দিয়েছে ডন ও বিবিসি। বাংলাদেশেও মিরপুরের টোলারবাগে মসজিদ থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে দুই জন মৃত্যুর তথ্য আসে গত মাসের শেষ দিকে। এর পর দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করায় সরকার করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং ধর্মীয় নেতাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সবার পরামর্শে ধর্মীয় উপাসনালয় ও মসজিদে উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আহ্বানে দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেমরা মসজিদে মুসুল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে আহ্বান জানান। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ভাইরাসটি হাঁচি, কাশি, নিঃশ্বাস ও সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ায় মুসলিম স্কলারদের অভিমতের ভিত্তিতে মক্কার কাবা ও মদিনা মুনাওয়ারাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের মসজিদে মুসুল্লিদের আগমন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সর্ব সাধারণের আগমন বন্ধ রাখার জোর পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন আরও আগে থেকেই।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading