করোনার ছোবলে বিশ্বে মৃত্যু ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল!!

করোনার ছোবলে বিশ্বে মৃত্যু ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল!!

উত্তরদক্ষিণ ১০ এপ্রিল ২০২০। ১২.৪০ আপডেট ২৩ঃ৫৫

নভেল করোনা ভাইরাসের ভয়াল ছোবলে মৃতের সংখ্যা ১ ছারিয়ে গেল। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম্বারেওর মতো এই রোগে মানবদেহে সংক্রমনের খবর পাওয়া যায়। তারপর এ বছরের শুরুতে ১১ জানুয়ারি করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু ঘটে সেই উহানে। এরপর চীন থেকে ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইয়ান, ইটালী, স্পেন, জার্মানি, বৃটেন সহ গোটা ইউরোপ হয়ে আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্থান সহ দক্ষিণ এশিয়াতেও করোনা থাবা বসিয়েছে। গত তিন মাসে মৃতের সংখ্যা এক লক্ষ পেরিয়ে গেল।

হানজালা শিহাব: নতুন ধরনের এই ভাইরাস প্রতিরোধে এখনও নেই টিকা, নেই নির্দিষ্ট কোনো ওষুধও; ফলে থমকে যাওয়া বিশ্বে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে, যা কতদূর যাবে তা এখনও অনিশ্চিত। এই মহামারী পর্যবেক্ষণ করে আসা জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি শুক্রবার রাতে (১০ এপ্রিল, বাংলাদেশ সময় রাত ১১ঃ৫৫) দেওয়া হালনাগাদ তথ্যে ১ লক্ষ ৩৭৬ জন মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। এই সময় পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৫ দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৫০ হাজার ২১০ জন। আর আক্রান্তদের মধ্যে ‍সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬৯ জন।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ডাটা সেন্টার লিঙ্ক

করোনা দেখা যায় না। স্পর্শ করা যায় না। সূর্য্যের মতো কোনো আলোক রশ্মি নয়। বাতাসের মতো অনুভব করার বস্তু নয়। তবে আছে। যেমন আছে প্রাণী জগতের প্রাণ। যেমন আছেন বিশ্ব স্রষ্টা। সেই স্রষ্টারই সৃষ্টি এক প্রাণঘাতি ভাইরাস। নাম নভেল করোনা। সেই করোনা সৃষ্টি করছে কভিড-১৯। আর এই রোগের ভয়েই পৃথিবী আজ স্তব্ধ। গতিহীন বিশ্ব। তবুও থেমে নেই করোনার ভয়াল আক্রমণ। মানুষ করোনা থেকে আত্মরক্ষায় কত কিছুই না করছে। কিন্তু মানুষের কোনো প্রচেষ্টাই যেন করোনাকে প্রতিরোধে সফল হচ্ছে না। ভয়ানক থ্রিডি বা ফাইভডি মুভি যেন বাস্তব রূপ নিয়েছে। কোনো প্রতিরোধ আর বাধাই ঠেকাতে পারছে না নভেল করোনা বা কভিড-১৯ নামের দানবকে। কী এক সাঙ্ঘাতিক অবস্থা। মানুষ যা কোনোদিন ভাবতেও পারেনি। তাই আজ বাস্তব।

তাইতো বিশ্বব্যাপী মহামারি আকাড়ে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যা এখন লাখের ঘর ছুঁই ছুঁই করছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের হার। পুরো পৃথিবী যেন এক ভয়ানক মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে। মানুষ বাঁচার জন্য যত চেষ্টাই করছে কোনো কিছুই কাজে আসছে না। ফলে আস্তিক-নাস্তিক আজ সবাই স্রষ্টার কাছেই মুক্তির আশায় আকাশ পানে তাকিয়ে। সেই সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দিন-রাত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন মানব জাতি রক্ষায় নতুন আবিষ্কারের অন্বেষণে। সবার অপেক্ষা অন্ধকার সুরঙ্গের ওপারে নতুন আলোর পথ খুঁজে পাওয়ার। হয়তো খুব দ্রুতই সে আলো আসবে পৃথিবীতে। এর আগে আমাবষ্যার ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন গুয়া সাবধানে পারি দিতে হচ্ছে বিশ্ববাপীকে। আর সে পথেই বইছে মৃত্যুর মিছিল।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা- ওয়ার্ল্ডওমিটারে প্রকাশিত সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পর্যন্ত নভেল করোনা বা কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে ৯৫ হাজার ৭৬৬ জন মানুষের এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে। একই সময় করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫ হাজার ৭৯০ জনে। গত বছরের শেষ দিকে চীনে নভেল করোনা আক্রমণের শুরুর দিকে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হার ছিল অনেক কম। কিন্তু এখন সেই হার অনেক বেড়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয়ক হলো, একজন কোনোভাবে সংক্রমিত হলে তার সংস্পর্শে আসা পরিবার-পরিজনসহ সবাই সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে যান। শুধু সংক্রমণই নয়, সৃষ্টি হয় মৃত্যু ঝুঁকিও। ফলে করোনা কম সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

আশার দিক হলো, যারা আক্রান্ত হচ্ছেন সবাই মারা যাচ্ছে না। বেশির ভাগ মানুষই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সংক্রমিতদের মধ্যে অন্তত ৩ লাখ ৫৭ হাজার মানুষ সুস্থ্য হয়েছেন। যদিও দ্বিতীয় বার তাদের সংক্রমণের ঝুঁকিও উড়িয়ে দিচ্ছে না বিশেষজ্ঞরা। ফলে সুস্থ হওয়ার পরও তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে চীনে প্রথম এ মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিশ্বের ২০০টি দেশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ১ লক্ষ ৩৭৬ জন মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। এই সময় পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৫ দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৫০ হাজার ২১০ জন। আর আক্রান্তদের মধ্যে ‍সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬৯ জন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য থেকে উপাত্ত ব্যবহার করে তৈরি করা এ পরিসংখ্যান করোনাভাইরাসের প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যার কেবলমাত্র একটি আংশিক প্রতিফলন বলে ধারণা তাদের। কেননা, বিশ্বের অনেক দেশ কেবলমাত্র মারাত্মকভাবে আক্রান্ত লোকদেরই করোনা পরীক্ষা করছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হচ্ছে, মার্কিন আমেরিকা, ইউরোপের ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের পর এশিয়ার চীন ছাড়া অন্য দেশগুলোও এখন ব্যাপকহারে সংক্রমিত হচ্ছে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ইতালিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৬ জন এবং মারা গেছে ১৮ হাজার ২৭৯ জন। মৃতের এ সংখ্যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে দেশটিতে প্রথম করোনাভাইরাসে মৃত্যু ঘটে। ইউরোপের আরেক দেশ- স্পেনে করোনাভাইরাসে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২২২ জন আক্রান্ত এবং ১৫ হাজার ৪৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

যে সব দেশে সর্বাধিক মৃত্যু

>> ইতালি: মৃত্যু ১৮ হাজার ২৭৯; আক্রান্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৬; মৃত্যুর হার ১২.৭ শতাংশ।

>> যুক্তরাষ্ট্র: মৃত্যু ১৬ হাজার ৪৭৮; আক্রান্ত ৪ লাখ ৬১ হাজার ৪৩৭; মৃত্যুর হার ৩.৬ শতাংশ।

>> স্পেন: মৃত্যু ১৫ হাজার ৪৪৭; আক্রান্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার ২২২; মৃত্যুর হার ১০.১ শতাংশ।

 >> ফ্রান্স: মৃত্যু ১২ হাজার ২২৮; আক্রান্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮১; মৃত্যুর হার ১০.৩ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন আমেরিকায়। সেখানে করোনাভাইরাসে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯৫ জন আক্রান্ত এবং ১৬ হাজার ৬৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আমেরিকায় মৃত্যুর এ সংখ্যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ। দেশটিতে সবচেয়ে দ্রুত এ মহামারি ভাইরাস ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ফ্রান্সে করোনাভাইরাসে ১২ হাজার ২১০ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এরপর ব্রিটেনে করোনাভাইরাসে ৭ হাজার ৯৭৮ জনের মৃত্যু এবং ৬৫ হাজার ৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।

চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩৩৫ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৮৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে ৭৭ হাজার ৩৭০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্ডিয়ার অবস্থা বেশ নাজুক এ মুহূর্তে। দেশটিতে ২১ দিনের টানা লকডাউন চলছে। তারপরও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৭৭১ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২২৮ জন। বাংলাদেশে গত মাসের ৮ তারিখে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ৩ জন শনাক্ত হয়। গত একমাসে সেই সংখ্যা বেড়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৩০ জনে পৌঁছেছে। মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ৩৩ জন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading