পরিবারের সঙ্গে ‘শেষ দেখা’, বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি যে কোন মুহুর্তে..
উত্তরদক্ষিণ ১০ এপ্রিল ২০২০ । ১৯ঃ৫৮
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী ক্যারটেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের সঙ্গে কারাগারে গিয়ে ‘শেষ দেখা’ করে এসেছেন তার পরিবার ও স্বজন। এখন থেকে যে কোন মুহুর্তে তার ফাঁসি কার্যকর হতে পারে
আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৫টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাজেদের সঙ্গে দেখা করেন। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা (বরখাস্ত) মাজেদ বর্তমানে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান গ্ণমাধ্যমকে সাক্ষাতের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৫টায় মাজেদের স্ত্রী সালেহা বেগম, তার চাচা শ্বশুর, শ্যালকসহ ৫ জন স্বজন কারাগারে প্রবেশে করেন । সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তারা কারাগার থেকে বের হয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলছেন, এটাই তাদের ‘শেষ সাক্ষাৎ’ বলে মনে করছেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে ছয় আসামি পলাতক ছিলেন তাদেরই একজন সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া ক্যাপ্টেন মাজেদ। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ও আদালতের রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মাজেদ গত ২৩ বছর ধরে পলাতক থাকলেও গত মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৪টার দিকে গাবতলীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানায়। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে। এরপর মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। তার বয়স বর্তমানে ৭২ বছর।
একটি ওয়াকিবহাল সুত্রে জানা গেছে, ফাঁসির আসামী মাজেদের সংগে এটাই তার স্বজনদের শেষ সাক্ষাত। রাষ্ট্রপতি তার প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করার পর আদালতের রায় কার্যকর করতে আর কোন আইনী বাঁধা নেই। পলাতক থাকার কারণে ও আপিল করার নির্ধারিত সময় শেষ বিধায় মাজেদ আপিলের সুযোগও পাবেন না।
এখন থেকে যে কোন মুহুর্তে তার ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ যে কোন মুহুর্তে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করতে পারে।
আসামির ফাঁসি কার্যকর করতে একটি জল্লাদ টিম গঠন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। জল্লাদ টিমে শাজাহান, আবুল, তরিকুল, সোহেলসহ ১০ জন সদস্য র্যেছে বলে জানা গেছে।
প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ, ফাঁসি কার্যকরে আর বাধা নেই

