করোনাময় বিশ্বে বিয়ে সমাচার

করোনাময় বিশ্বে বিয়ে সমাচার

উত্তরদক্ষিণ ১৪ এপ্রিল ২০২০ । ১৬:৪৫

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অনেকটা থমকে গেছে। বদলে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও এসেছে ভিন্নতা। শুধু তাই নয়। মানুষের যৌন জীবনেও পড়েছে করোনার প্রভাব। ফলে করোনা পজেটিভ ব্যক্তির মন চাইলেও সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হতে পারছেন না। আর যৌনকর্মীদের ব্যবসায় যে ধ্বস নেমেছে তা কে না জানেন! এমনকি এ মুহূর্তে চাইলে বিয়ে করে বউ ঘরে আনারও সুযোগ নেই। এটা বাস্তবতা হলেও একেবারে যে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় না তা কিন্তু নয়। কেউ কেউ সব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গৃহবন্দী জীবনকে আনন্দঘন করতে নতুন বউ ঘরে আনার কাজ ঠিকই করে যাচ্ছেন। এটা দেশে-বিদেশে সবখানেই ঘটছে। ভয়ার্ত পৃথিবীতে এমন বিচিত্র কর্মের মাধ্যমে গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছেন অনেকে। করোনাময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু আলোচিত বিয়ের খবর থাকছে প্রতিবেদনে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লকডাউন ভেঙে ধুমধাম করে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। বিষয়টি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছে। ওই কর্মকর্তা হয়তো ভেবেছেন, অন্য সময় বিয়ে করলে খবরে আসা যেত না। করোনার মধ্যে বিয়ে করে দুটি লাভ হলো। বউ তো পেলাম। মিডিয়ায় প্রচারও পেলাম! তবে তিনি দেশবাসীর দৃষ্টিতে ঘৃণার পাত্র হয়েছেন।

গত ৮ এপ্রিল ওই বিয়ের ঘটনা প্রকাশের একদিন পর ১০ এপ্রিল সাভারে বিয়ে করতে গিয়ে ৮০ হাজার টাকা আক্কেল সেলামী দিতে হয়েছে বর ও কনে পক্ষকে। এ নিয়ে উত্তরদক্ষিণে প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‌’সাভারে ২ ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিয়ে’

খবরে বলা হয়, সাভারে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অর্ধশতাধিক মানুষের সমাগম নিয়ে বিয়ে অনুষ্ঠানিকতার সময় অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। এসময় বর-কনে উভয়পক্ষকে আর্থিক জরিমানা প্রদান করে বিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে সাভারের সালেপুর গ্রামে কনের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার সময় র‌্যাব-৪ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। এসময় বর-কনের উভয়পক্ষের ৮ জনকে ৮০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা কারা হয়।

তবে করোনার মধ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিয়ে যে শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে তা নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন বিয়ের খবর আসছে। এ নিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
তরুণ দম্পতি ফ্রান্সিস এবং ভেরোনিকা গিটোংগা হানিমুনে এসেছেন নিয়াহুরুরু এলাকায় তাদের গ্রামের বাড়িতে। নাইরোবি থেকে জায়গাটা প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। তারা তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান করেছেন গত ৫ এপ্রিল। প্রায় ৫০০ জনকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু যখন শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানটি হলো, গির্জায় ঢুকতে দেয়া হয়েছিল মাত্র ৬ জনকে। বর, কনে, এক দম্পতি এবং দুজন যাজক। আর কেউ বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি পাননি- না তাদের বাবা-মা, পরিবার, না কোন বন্ধু-বান্ধব, গ্রামবাসী।

কোভিড-নাইনটিনের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য যেসব বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে, তাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না বহু মানুষ। এই দম্পতি যখন বাড়িতে একটা বিয়ের অনুষ্ঠান করলেন, সেখানে যেতে পেরেছিলেন মাত্র ১২ জন।

সব কিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত রাখতে পারতেন। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, এর মধ্যেই বিয়ে করবেন। এটি নিয়ে তাদের কোনও দুঃখ আছে কিনা যে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব তাদের অনুষ্ঠানে আসতে পারলেন না। এমন প্রশ্নে ‘না, আমাদের কোওে দুঃখ নেই, বললেন গিটংগা, যিনি নিয়াহুরুরুর গির্জায় কাজ করেন।

‍‍তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে হচ্ছিল ঈশ্বর যেন আমাদের বলছেন, বিয়েটা করে ফেলতে। আমি আর ভেরোনিকা তো একে অন্যকে গভীরভাবে ভালোবাসি। গির্জায় ঈশ্বরের সামনে আমরা দুজন এক সঙ্গে জীবন বাঁধবো, সেটাই তো আমরা সবসময় চেয়েছি। গিটংগা আরও বলেন, কোভিড-নাইনটিন কেবল তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাই বদলে দেয়নি। কিছু অপ্রত্যাশিত সুফলও এনেছে। বিয়ের অনুষ্ঠান করতে আমাদের খরচ করতে হতো প্রায় ৩ লাখ কেনিয়ান শিলিং (২৮০০ ডলার)। কিন্তু অতিথিরা না আসায়, খাবারের খরচ এবং হল ভাড়ার খরচ বেঁচে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫০ হাজার শিলিং খরচ হয়েছিল। এখন আমরা কেনিয়ার নানা জায়গা থেকে অনেক ফোন কল পাচ্ছি তরুণদের কাছ থেকে। আমরা যে ধুমধাম করে বিয়ে করে অনেক ধার-দেনায় পড়িনি, এরকম জাঁকজমকহীন বিয়ে করলাম, সেটা নাকি তাদের অনুপ্রাণিত করেছে।

এক বিশ্ব মহামারীর মাঝখানে গিটংগার এবং মিসেস গিটংগার এই বিয়ে আসলেই একটি সত্যিকারের ভালোবাসার কাহিনী। কেনিয়ার এক ‘নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি‌’তে এরকম ছোট্ট, অন্তরঙ্গ এবং কম খরচের বিয়েই হয়তো আমরা দেখবো।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading