করোনা বিশ্বে নতুন জন্ম
উত্তরদক্ষিণ ১৪ এপ্রিল ২০২০ । ১৬:১৫
মানুষের জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় হয়। এটি প্রত্যেক ধর্মের মানুষের বিশ্বাস। করোনাময় বিশ্বে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। পাশাপাশি জন্ম নিচ্ছে অসংখ্য শিশু। মৃত্যু প্রত্যেক পরিবারের জন্য যেমন বেদনার। জন্ম ঠিক তার উল্টো। তাইতো করোনা আতঙ্কের মধ্যেও যাদের পরিবারে নতুন অতিথির আগমন হচ্ছে, তাদের আর আনন্দের সীমা থাকছে না। করোনাভাইরাস নামের দানবের ভয়ে গৃহবন্দী পরিবারে এনে দেয় স্বর্গীয় সুখের অনুভূতি।
একটি জাতীয় দৈনিকের বার্তা সম্পাদক গণেশ চন্দ্র হাওলাদার। গ্রামের বাড়ি সাগরকন্যা পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। থাকেন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায়। করোনায় অঘোষিত লকডাউনে অনেকটা গৃহবন্দী জীবন পারছেন। এর মধ্যে তাদের ঘর আলোকিত করে এসেছে নতুন অতিথি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষের দিনেই সেই অনুভূতি ব্যক্ত করে বন্ধু আর সতীর্থদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।
নবজাতক শিশুসহ বেশ ক’টি ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে গণেশ লিখেছেন, ‘পরম করুনাময় সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় আমাদের প্রথম সন্তান (পুত্র) গত ১২ এপ্রিল বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে জন্মগ্রহণ করেছে। সকলের কাছে তার জন্য আর্শিবাদ কামনা করছি। শুভ নববর্ষ ১৪২৭।’
শুধু গণেশ নন। আরও অনেকের পরিবারেই আসছে নতুন অতিথি। অবশ্য সব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এক নয়। আনন্দের সঙ্গে শঙ্কা মিশ্রিত জন্মের সেসব কাহিনী বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নাইরোবির এক হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিতে এসেছেন এক নারী। ৩২ সপ্তাহের অন্তসত্ত্বা। ডা. শীলা আটিয়েনোকে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হচ্ছে তার ওপর। এরকম কাজ তিনি এর আগেও বহুবার করেছেন। কিন্তু এবারের শিশু জন্ম নেয়ার ঘটনাটি ঘটছে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে।
সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা এই নারীকে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরীক্ষায় দেখা গেছে তিনি কোভিড-নাইনটিনে আক্রান্ত। কাজেই আর ১০টি স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের ঘটনা এটি নয়। ডা. আটিয়েনো একজন ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তার সঙ্গে আছেন আরও কয়েকজন ডাক্তার। যেসব গর্ভবতী নারীর করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব ওই দলটির ওপর।
খুবই নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে ডা. আটিয়েনোর জীবন। তিনি নিজেও দুই শিশু সন্তানের মা। দুজনের বয়সই দুই এর নিচে। তিনি বলেন, “আমি এমন সব গর্ভবতী মায়েদের দেখাশোনা করছি, যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত, খুবই কঠিন মনে হয় ব্যাপারটা। আমাকে এখনই কোনও রোগীর সিজারিয়ান সেকশন করতে হবে। এর মানে হচ্ছে রোগীর দেহের অনেক রক্ত এবং বডি ফ্লুইডের সংস্পর্শে আসতে হবে আমাকে। অপারেশন করার সময় আমার শরীর যদিও ঢাকা থাকবে খুবই সুরক্ষিত স্যুটে। এই স্যুটটি পরলে বেশ গরম লাগে, আর মোটেও আরামদায়ক নয়। আর যখন আমি বাড়ি ফিরে যাই, বাচ্চারা দৌড়ে আসবে আমার কোলে উঠার জন্য। কিন্তু কাপড়-চোপড় বদলে, গোসল করে, স্যানিটাইজার মেখে পরিচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমি ওদের ছুঁতে পারি না। তিনি আরও বলেন, মানসিকভাবে, আবেগের দিক থেকে, এটা বেশ কঠিন। কিন্তু আমার তো কোনও উপায় নেই- নতুন শিশুকে এই পৃথিবীতে নিয়ে আসা, সেটাই আমার কাজ। সেটা পৃথিবীতে মহামারি থাকুক আর না থাকুক!

