জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের ২৯ ডাক্তার-নার্স আক্রান্ত
উত্তরদক্ষিণ ২৯ এপ্রিল ২০২০ । ১৭:৩৭
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সসহ ২৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জানা গেছে, সপ্তাহ তিনেক আগে একজন রোগী ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে এসেছিলেন হার্টের সমস্যা নিয়ে। দিন দশেক ধরে তিনি ভর্তিও ছিলেন হাসপাতালটির একটি ওয়ার্ডে। এক পর্যায়ে তিনি কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হন। পরে করোনার চিকিৎসা দেয়া হয়, এমন হাসপাতালে ওই রোগীকে প্রেরণ করা হয়। এখন দেখা যাচ্ছে হৃদরোগ হাসপাতালটির একের পর এক চিকিৎসাকর্মী কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছেন, যারা প্রত্যেকেই কোনও না কোনওভাবে ওই রোগীর সংস্পর্শে গিয়েছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের একমাত্র সরকারি ওই বিশেষায়িত হাসপাতালটির ৮টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে একটিকে লকডাউন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার একজন সহকারী অধ্যাপক। তিনি নাম প্রকাশ করতে আগ্রহী নন। ইনস্টিটিউটের পরিচালক মীর জামালউদ্দীন নিশ্চিত করেছেন যে, সব মিলিয়ে ২৯ জন হাসপাতাল কর্মী সংক্রমিত হয়েছেন। তবে তিনি অবশ্য লকডাউনের ব্যাপারটি স্বীকার করেননি।
সব মিলিয়ে যে ২৯ জন হাসপাতালকর্মী শনাক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮জন ডাক্তার ও ৭ জন নার্স। একজন নার্সের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আগেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। এখন আরো একজন ডাক্তারের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বুধবার (২৯ এপ্রিল) হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে হৃদরোগ ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। অন্যরা বাসায় থেকেই এ মুহূর্তে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সারাদেশের শুধুমাত্র ওই হাসপাতালটিতেই ভাসক্যুলার সার্জারি করার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ শরীরে যেকোনো অংশে আঘাত লেগে বা কেটে গিয়ে যদি কোনও ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা সারিয়ে তোলার ব্যবস্থা একমাত্র হৃদরোগ ইন্সটিটিউটেই আছে। এছাড়া সারাদেশ থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা এই বিশেষায়িত হাসপাতালে আসেন, যাদের জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দেয়া বা অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন পড়ে। ফলে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা যদি ব্যাহত হয়, তাহলে বহু মানুষের জীবন সংশয় তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামালউদ্দীন বলেন, একজন রোগীর মাধ্যমেই ২৯ জন চিকিৎসাকর্মী আক্রান্ত হন। যদিও তিনি এদের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র চিকিৎসক জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন ডাক্তার-নার্স ছাড়াও রয়েছেন একজন ওয়ার্ড মাস্টার, ক’জন ওয়ার্ডবয় এবং নিরাপত্তারক্ষীসহ অন্যান্য সহায়তা কর্মী। তারা সবাই ওই রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, যাদেরকে পরবর্তীতে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সপ্তাহ তিনেক আগে ওই রোগী হৃদরোগের জটিলতা নিয়ে জরুরি বিভাগে আসেন এবং এরপর তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি করে নেয়া হয়। এসময় তার শরীরে করোনাভাইরাসের কোনও লক্ষণ ছিলো না। দিনকয়েক পরে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে তার নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়। নমুনার ফলাফল হাতে পাওয়ার আগেই ওই রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফলাফলে তার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। ফলে তার সংস্পর্শে আসা চিকিৎসাকর্মীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং সবারই সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তথ্য সহায়তা বিবিসি বাংলা।

