দাম বৃদ্ধি, তবুও মদ কিনতে মরিয়া!

দাম বৃদ্ধি, তবুও মদ কিনতে মরিয়া!

উত্তরদক্ষিণ বুধবার ০৬ মে ২০২০। ১৫:২৫

ইন্ডিয়ায় দীর্ঘ লাইন জয় করে, হাজার টাকার বোতল ১৩শ টাকায় কিনে যেভাবে দোকান থেকে বেরোচ্ছেন, যেন করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হাতের মুঠোয়! উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব দিল্লির যে সব জায়গায় মদের দোকান খোলা রয়েছে, সর্বত্র হুবহু একই দৃশ্য। খবর আনন্দবাজারের।

মঙ্গলবারই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ক্যান্টনমেন্ট এরিয়ার বাইরে মদের দোকান খুলবে ঠিকই কিন্তু স্পেশাল করোনা ফি হিসেবে দিতে হবে ৭০% বেশি দাম! প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ১৫০টি তালিকাভুক্ত মদের দোকান। কিন্তু দেখা গেল, বুধবার সকাল ৯টায় এসে দোকানের এক মাইল দূরে দাঁড়ানোর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অনেকেই। পূর্ব দিল্লির লক্ষ্মীনগর এলাকার মদের দোকানটির সামনে তাই মঙ্গলবার শেষ রাত থেকে ভিড় জমতে দেখা গিয়েছে!

প্রবীণ খন্না নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা যেমন এসেছেন ভোর ছ’টায়। তার অভিযোগ, ভোর থেকে ভিড় সামলানো উচিত ছিল পুলিশের। তখনই এসে টোকেনের মতো করে নম্বর নিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। তাহলে সুষ্ঠুভাবে সবাই এক-এক করে পেতেন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, আমি এসেছি ভোর পৌনে ছ’টায়। আমার অনেক বন্ধু এসেছে ভোর চারটায়। কিন্তু দেখুন, পুলিশ পৌঁছাচ্ছে দোকান খোলার ৫ মিনিট আগে। কোনও ব্যবস্থা নেই। মানুষকে বোঝাবে কে? যদি লড়াই-ঝগড়া হয়, তাহলে কে দায়িত্ব নেবে? সেই সঙ্গে প্রায় বুকে হাত রেখেই বললেন, মদের ৭০% দাম বেড়েছে বলে কোনও দুঃখ নেই। দেশের জন্য এটুকু দান করতে আমরা প্রস্তুত!

এর আগের দিন সকালেও দোকান খোলার আগে থেকে অধিকাংশ মদের দোকানের সামনে লম্বা লাইন ছিল। পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। ফলে খুলেও বন্ধ করে দিতে হয় অধিকাংশ মদের দোকান। তখন রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে, মদে আরও কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দোকানের সামনে উন্মত্ত ভিড় কিছুটা কমানোর কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি রাজ্যের কোষাগারে কিছু বাড়তি আমদানির কথাও ভাবা হয়েছে। কিন্তু এরপরও দিনশেষে মদের দোকানের সামনে ভিড় কমার লক্ষণ তো দেখা যায়ইনি, বরং সংক্রমণের তোয়াক্কা না করেই দোকানের সামনে সবাই ব্যাগ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading