করোনা পরীক্ষার ফল পেতে বিলম্ব ও ঝুঁকি!
উত্তরদক্ষিণ বুধবার ০৬ মে ২০২০। ১৮:১৫
হিল্লোল বাউলিয়া: রাঙামাটি থেকে গত ২৯ এপ্রিল ৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। ৬ মে, বুধবার সেই ফলাফল জনা গেছে করোনা বা কভিড-১৯ পজিটিভি। এখন ওই পরিবারগুলোকে লকডাউনের করা হচ্ছে। কিন্তু এতদিন তারা সবাই একই সঙ্গে ছিলেন।
একইভাবে যশোরের আতিক আহমেদ (ছদ্ম নাম) কয়েকদিন জ্বর, সর্দি কাশিতে ভুগতে থাকেন। এর পর ২৫ এপ্রিল তার নমুনা নিয়ে যাওয়া হয়। ২৮ এপ্রিল তাকে জানানো হয় যে, তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত।
একই ঘটনা ঘটে নারায়নগঞ্জের বাসিন্দা হ্যাপি খানমের (ছদ্ম নাম) সাথে। পরিবারের একজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় পর পুরো পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠান তিনি। চারদিন পর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসার পর তিনি জানতে পারেন তার পরিবারের একাধিক সদস্য করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন।
করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে গত এক-দেড় মাসে দেশে এভাবে অনেকেই পড়েছেন বিড়ম্বনায়। জ্বর, সর্দি, কাশির মতো লক্ষণ নিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য নমুনা জমা দিলেও পরীক্ষার ফলাফল আসতে ৪ থেকে ৮ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার ঘটনা ঘটেছে অনেকের ক্ষেত্রে।
কারো কারো অভিযোগ, ফলাফল জানতে এক সপ্তাহের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাইরাস শনাক্তের বিষয়টি না জানলে বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাসের উপসর্গ যাদের মধ্যে থাকবে, তাদের সবাইকেই করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের মতোই সতর্কতার সাথে সেবা দিতে হবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, নমুনা পরীক্ষা করতে দেয়ার সময় থেকে ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীকে বাসায় বা সেবা কেন্দ্রে আইসোলেশনে রাখা উচিত। কিন্তু দেশের বিভিন্ন এলাকায় এরকম অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দেখা গেছে যে, নমুনা পরীক্ষা করতে দেয়ার পর সন্দেহভাজন রোগী যথেচ্ছভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন জমায়েতেও উপস্থিত হচ্ছেন। এই ধরণের ব্যক্তিরা নিজেদের অজান্তেই মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন মোশতাক হোসেন।
অন্য রোগের ঝুঁকি বাড়বে
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কিনা তা না জানা পর্যন্ত অন্য রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না বলে জানান মোশতাক হোসেন। “যেমন ডায়ালাইসিসের রোগীর ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে, তার শরীরে করোনাভাইরাসের বিষয়ে- না জানা পর্যন্ত তার ডায়ালাইসিস করা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সঠিক সময়ে না আসায় ওই ব্যক্তিদের ‘নন কোভিড’ জটিলতার চিকিৎসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চিকিৎসা ব্যাহত হওয়া
করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল সময়মতো না আসায় অনেকের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়া, এমনকি বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান ওই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। মোশতাক হোসেন বলেন, সঠিক রোগতাত্বিক চিত্র পাওয়ার লক্ষ্যে সঠিক সময়ে পরীক্ষার ফল জানা খুবই জরুরি। সূত্র: বিবিসি।

