ব্রাহ্মনবাড়িয়াবাসী কেমন আছেন?
উত্তরদক্ষিণ মঙ্গলবার ১২ মে ২০২০। ১৫:৫০
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনসমাগম নিষিদ্ধের মধ্যেই ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় এক ধর্মীয় বক্তার জানাজায় বিপুল জনসমাগমের পর পেরিয়েছে তিন সপ্তাহের বেশি সময়। ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় তুলেছিলো এবং ঠাঁই করে নিয়েছিলো আন্তর্জাতিক নানা গণমাধ্যমেও।
সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামে ইসলামিক বক্তা যোবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় গত ১৮ এপ্রিল যোগ দিয়েছিলো হাজার হাজার মানুষ। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ওই সমাগমের জের ধরে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ রোধে জেলার সরাইলের পাঁচটি, আশুগঞ্জ উপজেলার দুটি ও ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর উপজেলার একটি গ্রামকে লকডাউন করে দেয়া হয়।
এরপর দু’সপ্তাহের লকডাউন ও কোয়ারেন্টিন শেষে জেলা প্রশাসন বলছে, ওই সব গ্রামে কারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্ধান মেলেনি। জেলা সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলছেন, তারা গ্রামগুলো থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছিলেন। তবে কারও করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়নি। সিভিল সার্জন বলেন, বিষয়টি আমাদের জন্য স্বস্তির। জানাজায় অনেক লোক জড়ো হওয়ার প্রেক্ষাপটে যেসব ব্যবস্থা প্রশাসন থেকে নেয়া হয়েছে, সেটা কাজ করেছে। লকডাউনও সবাই মেনে চলেছে। অনেকে নিজে থেকেই কোয়ারেন্টিনে ছিলো। ফলে সংক্রমণ বা এর বিস্তার হয়নি। আমরাও এখনো মনিটর করে যাচ্ছি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল টিম কাজ করছে।
সিভিল সার্জন ডা: একরাম উল্লাহ আরও বলেন, পুরো সরাইলে এ পর্যন্ত একজন করোনা পজিটিভ নারীকে পাওয়া গেছে, যিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছিলেন।
সরাইলের যে ইউনিয়নের বেশি গ্রাম লকডাউন করা হয়েছিলো সেই পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: দ্বীন ইসলাম বলেছেন, করোনায় সংক্রমিত হওয়ার কোনো উপসর্গ কারও মধ্যে না পাওয়ায় এখন আর লকডাউন সেখানে কার্যকর নেই। আমার ইউনিয়নের চারটা গ্রাম লকডাউন ছিলো। অনেকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে পজিটিভ কেউ নেই। জানাজার পর তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। তাই লকডাউন আর নেই। তবে কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা যায় কি-না সেদিকে আমরা খোঁজ রাখছি। সূত্র: বিবিসি।

