থামানো যাচ্ছে না ঈদযাত্রা, বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকি!

থামানো যাচ্ছে না ঈদযাত্রা, বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকি!

উত্তরদক্ষিণ সোমবার ১৮ মে ২০২০। ১৪:৪০

দেশে ঈদের সময় এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতের ওপর সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও অনেকেই তা উপেক্ষা করে নানা কৌশলে ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। এতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

জানা গেছে, গণপরিবহন তথা বাস-ট্রেন ও লঞ্চ না চললেও, বিভিন্নভাবে যানবাহন জোগাড় করে অনেকে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় নিজ গ্রামে যাচ্ছেন ঈদ উৎযাপন করতে। পুলিশ বলছে, তারা এরই মধ্যে অনেক গাড়ি আটক করছে এবং অনেক মানুষকে ফেরত পাঠাচ্ছে। তবুও প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

করোনা মহামারি রোধে দেশে চলমান সাধারণ ছুটি বাড়ানের কথা জানিয়ে গত সপ্তাহে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যেই প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেখানে বলা হয়েছিল যে ছুটির মধ্যে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় চলাচলের বিষয়টিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। কিন্তু প্রতি বছরের মতো ঈদের আগে মানুষের বাড়ির দিকে ছুটে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করতেই নেয়া হয়েছিল ওই সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ঈদকে সামনে রেখে মানুষের ঘরমুখী যাত্রা কিন্তু থেমে নেই।

এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়ার জন্য কোনো ধরণের গণপরিবহণ না থাকলেও কোনো না কোনো উপায়ে ঠিকই পরিবারের কাছে ফিরছে মানুষ। কেউ কেউ কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করে ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি ভাড়া করছেন, কেউ আবার স্থানীয় নানা পরিবহণ ব্যবস্থার সাহায্য ফিরছেন পরিবারের কাছে। কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়া সৈকত কবির জানান, পুরো রাস্তায় সিএনজি, লেগুনাসহ কয়েক ধরণের পরিবহণ ব্যবহার করতে হয় তার। আর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে অবলম্বন করা হতো বিভিন্ন ধরণের পদ্ধতি। তার ভাষায়, “ছোট সিএনজি, লেগুনা করে ফেরিঘাট পর্যন্ত গিয়ে ফেরি পার হয়ে টেম্পু আর প্রাইভেট গাড়ি শেয়ারে ভাড়া করে গিয়েছি। রাস্তায় পুলিশের চেকপোস্টের আগে যাত্রীদের নামিয়ে দিতো আর গাড়িটা খালি অবস্থায় চেকপোস্ট পার হতো,” জানান সৈকত কবির।

প্রতিবছর ঈদের মৌসুমে যেই পরিমাণ মানুষ বাড়ির দিকে যাত্রা করে, এবার সেই তুলনায় মানুষের সংখ্যা অনেক কম হলেও সেই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের মাওনা থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, প্রতিদিন তারা বহু গাড়ি আটক করছে এবং ফেরত পাঠাচ্ছে। তবুও মানুষকে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা যাচ্ছে না। মনজুরুল হক বলেন, “আজকেও আমার একটি বাস আটক করেছি, যেটিতে স্টাফ বাস লিখে যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছিল।”

ঈদের আগে বাড়ির দিকে যাওয়া এই মানুষগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটি মাথায় রেখে সব এলাকার স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রশাসনের কাছে নির্দেশনা দেয়া আছে, যে কেউ এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় গেলে তারা যেন হোম কোয়ারেন্টিন করে, তা যেন নিশ্চিত করা হয়। বিশেষ করে ঢাকা বা হটস্পটগুলো থেকে মানুষ অন্য এলাকায় গেলে পুলিশ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে। প্রত্যেকটা জেলাতে এই তদারকি চলছে।”

এরকম পরিস্থিতিতে সোমবার (১৮ মে) থেকে ঢাকা মহানগরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথগুলোর চেকপোস্ট ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading