আম্পানের তাণ্ডব: মমতার আহ্বানে সহায়তার প্রতিশ্রুতি মোদির
উত্তরদক্ষিণ বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২০। ১৭:৫৫
আম্পানের তাণ্ডবে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) এমনটাই জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে আম্পান পরবর্তী রাজ্যের পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখার জন্য ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও রাজ্য সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। খবর আনন্দবাজারের।
একের পর এক জেলা থেকে বিপর্যয়ের খবর শুনে বুধবার (২০ মে) রাতে নবান্নে বসে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আর্জি জানান মমতা। দক্ষিণবঙ্গে ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। তার সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে এ দিন টুইট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দিলেন, গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছে।

মোদি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আম্পান যেভাবে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, সেই দৃশ্য দেখেছি। এই সঙ্কটময় মুহূর্তে গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছে। রাজ্যের মানুষের শুভ কামনা করছি। তিনি আরও জানান, এই চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে সব রকম সহযোগিতা করা হবে মমতার রাজ্যকে। পরে আরও একটি টুইট করে মোদি বলেন, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করতে চেষ্টার কোনও কসুর করা হবে না।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পশ্চিমবঙ্গকে সব রকম সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন।
করোনার হানা এখনও সামলে উঠতে পারেনি পশ্চিমবঙ্গ। তার উপর আম্পান-এর তাণ্ডবে কার্যত বিধ্বস্ত রাজ্য। বুধবার ‘অতি মারাত্মক’ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে সেখানে আছড়ে পড়ে আম্পান। ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলিসহ দক্ষিবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার গতি ছিল আম্পানের। কোথাও আবার এর গতি উঠেছিল ১৮৫ কিলোমিটার।
আম্পান যেভাবে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে, তা নিয়ে বুধবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সব হিসাব উল্টে গিয়েছে। কারও ভবিষ্যদ্বাণী মিলল না। পুরোটা বাংলার উপর দিয়ে গেল। করোনার জন্য অর্থনীতির অবস্থা শেষ। তার পর এই দুর্যোগ। কোনও রোজগার নেই। পুনর্গঠন করতে অনেক টাকা লাগবে। এর পরই তিনি রাজ্যের এই পরিস্থিতির জন্য দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আর্জি জানান। সঙ্গে কেন্দ্রের কাছেও সহযোগিতা চান।

