নতুন বাজেটেও ৮.২% প্রবৃদ্ধির আশা
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২০ । ১৭:০০
কিরোনা মহামারির মধ্যেও আগের বারের মতো ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির বড় লক্ষ্য ধরে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যদিও থমকে যাওয়া অর্থনীতির চাকা পুরোপুরি সচল করার মত পরিস্থিতি কবে হবে সেই নিশ্চয়তা এ মুহূর্তে নেই অর্থমন্ত্রীর কাছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী, যা বাস্তবায়ন করতে গেলে তাকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে, নির্ভর করতে হবে ঋণের উপর। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বাংলাদেশ চলতি অর্থ বছরের জন্যও ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিল। কিন্তু মহামারির মধ্যে দুই মাসের লকডাউন আর বিশ্ব বাজারের স্থবিরতায় তা বড় ধাক্কা খেয়েছে।
সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা পুরোপুরি আত্মপ্রত্যয়ী ছিলাম যে এ বছর আমাদের অর্থনীতিতে সেরা প্রবৃদ্ধিটি উপহার দিতে পারব। আমাদের ইপ্সিত লক্ষ্যমাত্রাটি ছিল ৮ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৩ ভাগ। কিন্তু করোনার প্রভাব সারাবিশ্বের অর্থনীতির হিসাব-নিকাশকে সম্পূর্ণভাবে ওলটপালট করে দিয়েছে।
করোনা মহামারিতে রপ্তানি আয় তলানিতে ঠেকায় এবং রেমিটেন্সে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না বাড়ায় চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সংশোধন করে ৫ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘কোভিড-১৯ পরবর্তী উত্তরণের কথা বিবেচনায়’ নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ ঠিক করেন, যদিও এই মহামারির শেষ নিয়ে এখনও রয়েছে অনিশ্চিয়তা।
বিশ্ব ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ বলেছে, আগামী বছর তা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার মধ্যে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরার বিষয়ে করোনাভাইরাস সঙ্কট থেকে উত্তরণে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আশার কথা শোনান মুস্তফা কামাল।
অর্থমন্ত্রী এদিন সংসদে বলেন, ইকোনমিস্ট গত ২ মে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে নবম স্থানে রেখেছে। তাদের হিসাবে আমরা অন্যদের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছি।

