লাদাখে ‘পারস্পরিক ঐকমত্য’, পিছু হটতে রাজি চীন-ইন্ডিয়ার সেনা
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২০ । আপডেট ১৪:২৭
লাদাখ সীমান্তে দু’দেশের কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠকে ‘পারস্পরিক ঐকমত্য’ হয়েছে যে চীন-ইন্ডিয়া আপাতত সেনা সরিয়ে নেবে। উভয় পক্ষ পিছু হটতে রাজি হওয়াতে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। গালওয়ান উপত্যকায় দু’দেশের সেনা মোতায়েন ও সংঘর্ষের পরে কুটনৈতিক ও সামরিক ভাবে আলোচনায় ‘শান্তির বাতাস’ মিলল। দু’দেশের সেনাদের দীর্ঘ ১১ ঘন্টার ম্যারাথন বৈঠক করে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কোর কমান্ডার স্তরের ম্যারাথন বৈঠকে সোমবার (২২ জুন) লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএওসি) সেনা পিছনোর বিষয়ে ‘পারস্পরিক ঐকমত্যে’ এসেছে চীন-ইন্ডিয়া সেনাপক্ষ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইন্দীয়ার সেনাবাহিনীর সূত্রে পাওয়া এই খবর ছেপেছে হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার সহ সেদেশের সংবাদমাধ্যম। খবরে বলা হয়, ‘পূর্ব লাদাখের চুসুল লাগোয় মলডো অঞ্চলে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে’। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সংঘাতের ক্ষেত্রগুলি থেকে সেনা পিছোনোর বিষয়ে আলোচনায় সম্মতি দিয়েছে উভয় পক্ষ।
পাশাপাশি এলএসি বরাবর স্থায়ী বাঙ্কার-সহ বিভিন্ন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার বিষয়টিতেও চিনা ফৌজের আধিকারিকরা নীতিগত ভাবে সম্মতি জানিয়েছেন বলে সেনা সূত্রের খবর। গালওয়ান উপত্যকার পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ এবং ১৫-র পাশাপাশি গোগরা উপত্যকার হট স্প্রিং এলাকার পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৭ এবং প্যাংগং লেকের উত্তরাংশে ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণ করেছে চিন।
সোমবারের (২২ জুন) বৈঠকে লেহতে মোতায়েন ১৪ নম্বর কোরের লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরেন্দ্র সিংহ এবং চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির দক্ষিণ শিনজিয়াং মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের মেজর জেনারেল লিন লিউয়ের প্রায় ১১ ঘণ্টা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে গালওয়ান উপত্যকার ১৫ জুনের ‘চীনা হামলা’ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান হরেন্দ্র। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এলএসি’তে উত্তেজনা কমাতে মুখোমুখি অবস্থান থেকে দু’পক্ষই কিছুটা পিছিয়ে আসবে। সেই সঙ্গে, সীমান্তে নির্মাণের কাজও আপাতত স্থগিত রাখা হবে।
সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে চীন-ইন্ডিয়া সেনা সংঘর্ষ হলে পক্ষের সেনারা হতাহত হন। ওই ঘটনায় ইন্ডিয়ার কমপক্ষে ২০ সেনা নিহত হন। চীন তাদের হতাহত সেনার সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

