যেভাবে ৫-১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা পেলেন সাকিব আল হাসান
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার ২৪ জুন ২০২০ । আপডেট ১৫:২০
জুয়াড়ির কথা গোপন করার দায়ে অক্টোবর ২০২০ এ দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা পান অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। যার মধ্যে এক বছরের শাস্তি স্থগিত করা হয়। ফলে সব ধরণের ক্রিকেট কার্যক্রমের বাইরে থাকতে হবে তাকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
ক্রিকেটের খবর ও স্কোর সম্প্রচারকারী ওয়েবসাইট হিসেবে জনপ্রিয় ক্রিকবাজ ডট কম-এ ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সাকিবের বিভিন্ন বক্তব্য। জানিয়েছেন, ৫-১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা যেভাবে এড়িয়েছেন সাকিব।
সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, জুয়াড়ির সঙ্গে কথোপকথনকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি। তবে সেই ভুল তিনি পরে বুঝতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, আমি এটা একটু বেশিই হালকাভাবে (ক্যাজুয়ালি) নিয়েছিলাম। অবশ্যই আমি এই প্ল্যাটফর্মে বিস্তারিত সবকিছু আলোচনা করতে চাই না। আমি যখন দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলাম এবং বললাম, তারা সবকিছু জানে, সব প্রমাণ দিলাম, ভেতরে-বাইরের সবকিছু তারা খুঁটিনাটি সব জানে, সত্যি কথা বলতে, এই কারণেই মাত্র ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছি। নইলে ৫-১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারতাম।”
“আমার মনে হয়, বোকার মতো ভুল করেছিলাম। কারণ যে অভিজ্ঞতা আমার আছে, যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আমি খেলেছি এবং দুর্নীতি দমন ধারা নিয়ে যতগুলি ক্লাস করেছি, আমার ওই ভুল করা উচিত হয়নি। সেটা নিয়ে আমি অনুতপ্ত।” বলেন সাকিব আল হাসান।

বিশ্ব সেরা এই অলরাউন্ডার বলেন, “দেখুন, আমরা হাজারও ফোনকল পাই, ম্যাসেজ পাই, কয়টা আর মনে থাকে! একটা উদাহরণ আমি দিতে পারি, ওই লোকটি যখন শেষবার ম্যাসেজ পাঠিয়েছিল, আমি জবাব দিয়েছিলাম, ‘সরি, কার সঙ্গে কথা বলছি?’ তার মানে, আমার মনেও ছিল না, কার সঙ্গে কথা বলছি। তার সঙ্গে আগে কথা বলেছি ২-৩ বছর আগে। ওই সময় আমি জানতামও না লোকটা কে, তার নম্বরও আমার কাছে ছিল না। যাহোক, তারা যখন (আইসিসি দুর্নীতি দমন বিভাগ) তদন্ত করেছে, এসব তারা জানত এবং পরিস্থিতি বুঝেছে। তবে সত্যি বলতে, কারও উচিত নয় এসব হালকাভাবে নেওয়া। ওই ধরনের ম্যাসেজ বা কল কারও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয় বা ওভাবেই ফেলে রাখা উচিত নয়। দুর্নীতি দমন কর্তাদের জানানো উচিত নিরাপদে থাকতে হলে। এই শিক্ষা আমি পেয়েছি, বড় শিক্ষা এটি।”
সাকিব জানান, নিজের ওপর অতি আত্মবিশ্বাসও এক্ষেত্রে কাল হয়েছিল তার জন্য।
তিনি বলেন, “ যেহেতু সবসময় বেশির ভাগ ব্যাপারই ঠিক করেছি, কখনও কখনও সেই বোধ পেয়ে বসতে পারে। মনে হতে পারে, ‘কী আর হবে… কিছুই হবে না। আমি তো ভুল কিছু করছি না..।’ কিন্তু কেতাবি হিসেবে তো ভুল হচ্ছে। হয়তো নৈতিকতার দিক থেকে ভুল হচ্ছে না, কিন্তু আইন বা নিয়মের দিক থেকে ভুল হচ্ছে। অনেক সময় এটি মনে থাকে না। এটা আমার ক্ষেত্রে হয়েছিল। আমি কখনোই ভাবতে পারিনি… মাথায়ই আসেনি যে ভুল করতে পারি। পাত্তা দিতে চাইনি। সেই ভুলই আমি করেছি।”

