করোনায় ‘কসাইরা’ বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, কেন?
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার ২৪ জুন ২০২০ । আপডেট ১৫:৩০
করোনা মহামারি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বেশি ভয়াবহ রূপে ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার দেশগুলোতে এই সংক্রমণ অব্যাহত গতিতে এখনও উর্ধ্বমূখি। এটি পুরোনা খবর। নতুন খবর হচ্ছে, ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার দেশগুলোতে বিভিন্ন মাংস প্রক্রিয়াজাত করার কারখানা এবং কসাইখানার কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা বেশি ঘটেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়- ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মাংসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের শিকার কোনো ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা নিশ্বাসের মাধ্যমে বের হওয়া ড্রপলেট থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে থাকে। সংক্রমণের শিকার ব্যক্তির কাছাকাছি আসা ছাড়াও জীবাণুযুক্ত কোনো জায়গা স্পর্শ করার মাধ্যমেও ভাইরাস সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে।
ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার অঙ্কোলজির অধ্যাপক লরেন্স ইয়াং বলেন, “ফ্যাক্টরিগুলোতে, বিশেষ করে যেসব জায়গা ঠান্ডা এবং স্যাঁতস্যাঁতে, দীর্ঘসময় করোনাভাইরাস টিকে থাকা এবং ছড়ানোর জন্য আদর্শ পরিবেশ থাকে। অন্য জায়গার চেয়ে সেসব জায়গায় জীবাণু বহনকারী ড্রপলেট ছড়ানো এবং টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।”
এছাড়া মাংস প্রক্রিয়াজত কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উচ্চ মাত্রায় শব্দ করে বলে মানুষজন অপেক্ষাকৃত উচ্চস্বরে কথা বলে এবং ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে বলছেন বিজ্ঞানীরা।

কাজের পরিবেশ কতটা প্রভাব ফেলে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মীদের সামাজিক দূরত্ব মানানো কঠিন হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা বেশি ঘটছে। বিভিন্ন সুপারশপ বা কেএফসি, ডমিনোজ, ম্যাকডোনাল্ডসের মত ফাস্টফুড চেইনের জন্য বিপুল পরিমাণে মাংস প্রক্রিয়াজাত করার চাপ থাকায় কারখানাগুলো কর্মীদের দিয়ে কম সময় কাজ করাতে পারছে না এবং কাজটি কঠিন হওয়ায় কর্মীরা দীর্ঘসময় মাস্ক পরে কাজ করতে না পারাও এসব কারখানার কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এসব কারখানায় ব্যবহৃত মাংস থেকে কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে – এরকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ব্রিশিট ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি বলছে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে কারখানার ভেতরের পরিবেশ ছাড়াও অন্যান্য অনেক কারণে কারখানার কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি হতে পারে। “অনেক ফ্যাক্টরির কাছাকাছি জায়গায় তাদের কর্মীদের বাসস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেখানে তারা একসাথে বাসে করে যাওয়া আসা করে। অনেকক্ষেত্রে তাদের বাসস্থানের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে থাকে।”
ফ্রিজে ভাইরাস বেশি সময় টিকে থাকে?
মাংস প্রক্রিয়াজাতের কারখানাগুলোর পাশাপাশি মাংস সংরক্ষণের জায়গা, অর্থাৎ রেফ্রিজারেটরেও এই ভাইরাস অপেক্ষাকৃত দীর্ঘসময় টিকে থাকতে পারে বলে ধারণা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে যেসব করোনাভাইরাস পরিবেশে ছিল, সেগুলোর কয়েকটি প্রজাতি হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রায় পুরোপুরি কার্যকরভাবে বেঁচে না থাকলেও স্থিতিশীল অবস্থায় টিকে থাকে বলে প্রমাণ পেয়েছিল বিজ্ঞানীরা। সাধারণত গৃহস্থালিতে যেসব রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতে এই তাপমাত্রা থাকে।
গবেষণায় উঠে আসে, তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ২০ শতাংশের নীচে হলে সার্স করোনাভাইরাস প্রায় ২৮ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর আর্দ্রতা ৮০ শতাংশ হলে ভাইরাসটির স্থায়িত্বকাল থাকে ৬ ঘণ্টার মত। অনেক বিশেষজ্ঞ এই প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আর পরবর্তী গবেষষণার জন্য অপেক্ষা না করে ফ্রিজ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, কাছাকাছি প্রজাতির একটি করোনাভাইরাস যেহেতু ফ্রিজে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে, কাজেই নভেল করোনাভাইরাসেরও একই বৈশিষ্ট্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

