কোথায় হবে এশিয়া কাপ ক্রিকেট, শ্রীলংকা নাকি আরব আমিরাতে?
শেখফারুক। উত্তরদক্ষিণ। ২৪ জুন ২০২০। আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৫ জুুুন ২০২০। ০৫:২১
ভ্যেনু নিয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা যেন কাটছে না। এশিয়ার এই সেরা ইভেন্ট হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানে। শুরু থেকেই এটাি নির্ধারিত ছিল। স্বাভাবিক ভাবে আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রাপ্য। কিন্তু পাকিস্তানে খেলতে ইন্ডিয়ার আপত্তি, সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, করোনা মহামারি -এসব কারণে ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তান বাতিল হয়ে যায়।
আলোচনায় আসে বাংলাদেশের নাম। এশিয়া কাপের ভেন্যু বাংলাদেশ অংশিজনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু করোনা বাধা হয়ে দাড়ায়। এর সঙ্গে ক্রিকেটীয় পলিট্রিক্সের অন্দরের ‘খেলা’ও ছিল।
এরপর আসে শ্রীলংকার নাম। ভেন্যু হিসেবে এটাকে মোটমুটি চূড়ান্ত ধরে নেয়া হয়। এখন আবার নতুন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা শোনা যাচ্ছে।
আরব আমিরাতের কথা শুরুতে ফিসফিসিয়ে শোনা গেলেও শ্রীলংকার বিষয়টি সামনে আসায় চাপা পরে যায়। এবার আমিরাতের নাম শোনা গেল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খানের মুখে।
নির্ধারিত সময়েই এশিয়া কাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান বলেন, শ্রীলংকা বা আরব আমিরাতে হবে আগামী এশিয়া কাপ। তার এ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল, পাকিস্তানের মাটিতে আগামী এশিয়া কাপ হচ্ছে না। অথচ আগামী এশিয়া কাপের আয়োজক ছিলো পাকিস্তানই।
আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তান-ই এখানে মুল কর্তা। এশিয়া কাপ কোথায় হবে সেটি নিশ্চিত না করলেও শ্রীলংকা বা আমিরাত, এ দু দেশের কোন একটিতে যে হচ্ছে সেটি স্পষ্ট করেছেন তিনি। তবে এটাও এখন বাস্তবতা যে, এবারের এশিয়া কাপের ‘আয়োজক দেশ’ সত্বেও নিজ দেশে নয়, পাকিস্তানকে অন্য দেশে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে। আর সেটা শ্রীলংকাতে হোক বা আমিরাতেই হোক। এই বাস্তবতা মেনে নেয়া ছাড়া পাকিস্তানের হাতে অন্য কোন বিকল্প নেই।
ওয়াসিম জানান করাচিতে বুুধবার (২৪ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসিম বলেন, ‘এশিয়া কাপ যথা সময়েই হবে। আমরা সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে এশিয়া কাপ দেখতে পারি। ২ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড থেকে ফিরবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এরপরই এশিয়া কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
শ্রীলংকা কিংবা আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ হবে জানিয়ে ওয়াসিম বলেন, ‘আমরা এশিয়া কাপ নিয়ে আশাবাদী। শ্রীলংকা বা আরব আমিরাতে হবে এশিয়া কাপ। শ্রীলংকায় করোনাভাইরাস খুব বেশি ছড়ায়নি। তবে শ্রীলংকা যদি না পারে, তাহলে আরব আমিরাত প্রস্তুত আছে।’
ভেন্যু নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মতামত বেশ গুরুত্বপুর্ণ। এশিয়া কাপ আয়োজনের মুল হকদার ছিল তারা। ‘ক্রিকেট পলিত্রিক্সের’ কারণে তারা বঞ্চিত। এ কারণে তাদের সম্মতি বা ইচ্ছা এখানে বেশ ফ্যাক্টর। কার্যত এখন আমিরাতও ফ্যাক্টর হয়ে গেল ভেন্যু হিসেবে।
এশিয়া কাপের পরপরই নির্ধারিত হয়ে আছে টি-২০ বিশ্বকাপের সূচি। ঐ দু’টি আসরের পাশাপাশি নিজেদের সূচি নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে পাকিস্তানের।
ওয়াসিম বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়েকে ঘরের মাঠে স্বাগত জানাবো। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে যাবো। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট ও টি-২০ সিরিজ খেলতে পাকিস্তানে আসবে দক্ষিণ আফ্রিকা।’
তথ্য সহায়তা: বাসস

