‘অর্থ ও মানবপাচার’: রিমান্ড শেষে কুয়েতের কারাগারে এমপি পাপুল
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২০ । আপডেট ১২:৪০
অর্থপাচার ও ভিসা বাণিজ্যের মাধ্যমে মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য (এমপি) শহিদ ইসলাম পাপুলকে টানা ১৭ দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দেশটির কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুয়েতের আরব টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার তাকে ২১ দিনের জন্য কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ হয়েছে। পাপুলের পাশাপাশি তার মালিকাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মুর্তজা মামুনকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আরবি দৈনিক আল-কাবাস।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের কুয়েতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। পাপুলের স্ত্রী জাতীয় সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনের একজন এমপি।
মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাচারের শিকার ৫ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। আটকের পরদিন থেকে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।
বাংলাদেশের এই এমপি রিমান্ডে যা বলেছেন, তা প্রসিকিউটরদের বরাতে প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। কুয়েতি কর্মকর্তাদের তিনি কীভাবে কত টাকা ঘুষ দিয়েছেন, সেসব কথাও সেখানে আসছে। কুয়েতি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাপুলের মদদদাতা হিসেবে ইতোমধ্যে ৭জনকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। তাদের মধ্যে কুয়েতের দু’জন বর্তমান এবং একজন সাবেক পার্লামেন্ট সদস্যও রয়েছেন। তবে কুয়েতের বর্তমান দুই এমপি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে খবর দিয়েছে কুয়েত টাইমস।
সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুধু তাই নয়, নিজের স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করে আনেন তিনি।
প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।
মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির প্রায় ৯ হাজার কর্মী রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের এর আগে জানিয়েছিলেন পাপুল। যাদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি। লোক নিয়োগে ৩৪টি সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির হিসাবে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা রয়েছে বলে এর আগে পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাতে জানিয়েছিল কুয়েতি গণমাধ্যম।
পাপুল যাদেরকে ঘুষ দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে কুয়েতের দুর্নীতি দমন সংস্থা ‘নাজাহা’। অপরদিকে, বাংলাদেশেও এমপি পাপুল দম্পতির অবৈধ সম্পদের খোঁজে তৎপর হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পাপুলসহ তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব হিসাবের লেনদেন স্থগিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে দুদক।
এমপি পাপুলের নানা অপকর্ম নিয়ে আরব টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন পড়তে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

