রামোস ও ইউরোপের চার ‘গোলমেশিন’ ডিফেন্ডারের কথা
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার ২৬ জুন ২০২০ । আপডেট ০৮:৩০
লা লিগায় আলফ্রেদো দি স্তেফানো স্টেডিয়ামে বুধবার (২৫ জুন) রাতে মায়োর্কার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতে শীর্ষে ফিরেছে রিয়াল। ওই ম্যাচেই ৫৬তম মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে জাল খুঁজে নেন রামোস। এ গোলে স্পেনের শীর্ষ লিগে একজন ডিফেন্ডার হিসেবে গড়া সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটাকে আরেকটু উঁচুতে নিয়েছেন রিয়াল অধিনায়ক।
কেবল রামোসই নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে এমন অনেক ডিফেন্ডার আছেন, যারা নিজেদের রক্ষণ সামলে প্রতিপক্ষের সীমানায় হানা দিয়ে আদায় করে নিয়েছেন গোলের পর গোল।
ডিফেন্ডারের সংজ্ঞা বোধহয় কিছুটা হলেও বদলে দেওয়ার সময় এসেছে! অন্তত মাঠে রামোসকে দেখলে এমন ভাবনার উদয় হতেই পারে। ডিফেন্ডারের মূল দায়িত্ব গোল আটকানোর কাজ তো করছেনই, সঙ্গে যেন গোল দেওয়ার কাজটাও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক। নিয়মিত গোল করে চলেছেন তিনি, গড়ছেন রেকর্ড।
রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে এক গোল করে লা লিগার ৯১ বছরের ইতিহাসে ডিফেন্ডার হিসেবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন রামোস। ভাঙেন ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার হয়ে খেলা নেদারল্যান্ডসের রোনাল্ড কুমানের ৬৭ গোলের রেকর্ড। ৬৭টি গোলই কুমান করেছিলেন কাতালুনিয়ার দলটির হয়ে; সুবাদে এক দলের হয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ডটি এখন পর্যন্ত আছে তারই দখলে।
রেকর্ডের এই পাতায় মায়োর্কা ম্যাচের গোলে কুমানের পাশে বসেছেন রামোস। আর এক গোল পেলে পেয়ে যাবেন রেকর্ডটির মালিকানাও। এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের ৬৯ গোলের মধ্যে দুটি সেভিয়ার হয়ে, বাকি ৬৭টি রিয়ালের জার্সিতে। ২০০৫ সালে সেভিয়া ছেড়ে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে নোঙর ফেলা ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের জন্য তাই রেকর্ডের এ পাতায় নাম তোলা স্রেফ সময়ের ব্যাপার। কেননা, চলতি লিগে এরই মধ্যে আটবার গোল করার আনন্দে ডানা মেলেছেন রামোস।
এবারের লিগে রিয়ালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি! ১৭ গোল নিয়ে তার ওপরে ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা।
জন টেরি। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের সেরা ডিফেন্ডারদের ছোট তালিকায় নিশ্চিতভাবে থাকবেন টেরি। রক্ষণ আগলে রাখার পাশাপাশি হেড ও ভলিতে গোল করতে দারুণ পারদর্শী ছিলেন এই ইংলিশ ফুটবলার। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে ডিফেন্ডার হিসেবে সর্বোচ্চ গোলের (৪১টি) মালিক তিনি। ২০১৮ সালে বুটজোড়া তুলে রাখার আগে খেলেছেন চেলসি, নটিংহ্যাম ফরেস্ট ও অ্যাস্টন ভিলাতে। সোনালী সময় অবশ্য কাটিয়েছেন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের আঙিনায়। দলটির হয়ে পাঁচটি লিগ শিরোপা জেতেন টেরি।
অবশ্য টেরির চেয়ে অ্যাশলে ইয়ংয়ের গোল বেশি; ৪৮টি। কিন্তু ওয়াটফোর্ড, অ্যাস্টন ভিলা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা ইয়ং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অধিকাংশ সময় উইংয়ে খেলতেন। শেষ দিকে হয়েছিলেন ফুলব্যাক। তাই তার ৪৮ গোলও পুরোপুরি ডিফেন্ডার হিসেবে পাওয়া নয়।
জাচিন্তো ফাক্কেত্তি। রক্ষণাত্মক ফুটবলের জন্য আলাদাভাবে পরিচিত লিগ সেরি আয় একজন ডিফেন্ডারের ৫৯ গোল পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ইতালির শীর্ষ লিগে ডিফেন্ডার হিসেবে সর্বোচ্চ গোলদাতা জাচিন্তোর পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে তাই বিস্ময় জাগে। ক্লাব ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় (১৯৬০ থেকে ১৯৭৮) ইন্টার মিলানে কাটিয়ে দেওয়া এই ডিফেন্ডার পেয়েছিলেন ‘ফ্লাইং লেফট-ব্যাক’ খেতাব।
হোসে ওলভার্দো কুর্তি মূলত মিডফিল্ডার, মাঝে মধ্যে ডিফেন্ডারের ভূমিকাতেও খেলেছেন। সাম্পদোরিয়া ও তোরিনোতে খেলা এই আর্জেন্টাইন সেরি আয় ৬৪ গোল করেও তাই হতে পারেননি রেকর্ডটির মালিক।
লঁরা ব্লাঁ। কিংবদন্তি এই ডিফেন্ডার দারুণ দুটি রেকর্ডের মালিক। ডিফেন্ডার হিসেবে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ (১৬টি) এবং লিগ ওয়ানের সর্বোচ্চ (৪৪টি) গোলের মালিক তিনি। মঁপেলিয়ে, নিম, সাঁত-এতিয়েনে, আক্সুরে ও মার্শেই-এই পাঁচ দলের হয়ে গোলগুলো করেছিলেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জেতা লঁরা ব্লাঁ। ফ্রান্সে থাকাকালীন মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলেছিলেন তিনি। গোলও করেছিলেন। তবে রেকর্ড গড়া এই গোলগুলো সবই রক্ষণের সেনানী হিসেবে।
মানফ্রেড কার্টজ। কেবল বুন্ডেসলিগায় নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের হিসেবেও ডিফেন্ডার হিসেবে সবচেয়ে বেশি গোল মানফ্রেড কার্টজের। হামবুর্ক এসভির হয়ে আলো ঝলমলে সময় কাটানো এই রাইট-ব্যাক বুন্ডেসলিগায় রেকর্ড ৫৩টি গোল করেন পেনাল্টি থেকে।
ডুইসবুর্কের বার্নার্ড দিয়েটজের গোলও ৭৬টি। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফরোয়ার্ড হিসেবে সাত গোল করেছিলেন তিনি। ফলে মানফ্রিডই এ তালিকায় শীর্ষে। তথ্য সহায়তায় – বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

