প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার ২৬ জুন ২০২০ । আপডেট ২২:২৬
আতাউর রহমান: করোনার প্রভাবে সৃষ্ট সংকটে দেশে প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। করোনার ব্যাপক সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এসময়ে প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন বলেন, সরকার করোনাকালীন সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য টেলিভিশন, বেতার, মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। অনলাইন শিক্ষাদান কার্যক্রম সবার সহযোগিতায় শতভাগ সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাদান পদ্ধতি সফল করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হ্যালো টিচার’ কর্মসূচি বেশ সাড়া জাগিয়েছে। পরীক্ষা নেয়াসহ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো সফল করার জন্য নতুন নতুন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
জাকির হোসেন বলেন, করোনাকালে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম এবং পদক্ষেপ শিশুদের অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে একটা বিশেষ অর্জন। অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী ৬ আগষ্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা দুটোই নিচ্ছে। তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষা বা মূল্যায়ন উঠে যাচ্ছে। ছুটির পর অবস্থার প্রেক্ষিতে সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। এতে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার শিক্ষক কর্মচারির চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩২৮ কোটি ১৪ লাখ ১ হাজার ৯০০ টাকা জি টু পি পদ্ধতিতে (অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নির্ধারিত মোবাইল একাউন্টে পৌঁছে যাবে) প্রেরণ করা হয়েছে। চলতি জুন মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাবে। এ সময়ে জি টু পি পদ্ধতিতে ২০১৯ সালের পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রাপ্ত ৮৩ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ১৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৮৫ টাকা প্রদান করার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। এই খাতে প্রতি অর্থবছরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এক লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ জনকে ১৮৭ কোটি টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়। বৃত্তি প্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে অনলাইনে প্রেরণ করা হচ্ছে। অনলাইনে বৃত্তি প্রদানের এ সেবাটি মুজিববর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে ।
সরকার দেশে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গিকারাবদ্ধ। এ কারণেই সরকার এ খাতে অধিক হারে বরাদ্দ দিয়ে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আরো সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির হার বাড়ানো, ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সূত্র: বাসস।

