‘অর্থের লোভে’ প্রেমের ফাঁদ, গৃহবধূকে ‘অপহরণ’ করে ধরা!
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার ২৭ জুন ২০২০ । আপডেট ১৬:১০
লাখ লাখ টাকা আর স্বর্ণালঙ্কার। এসব দেখে লোভ হওয়ারই কথা! সেই লোভে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরোকিয়া প্রেমের ফাঁদ। এর পর সুযোগ বুঝে সেই টাকা আর স্বর্ণালঙ্কারসহ গৃহবধূকে অপহরণ। কিন্তু বিধি বাম। টাকা আর স্বর্ণ আত্মসাত করার আগেই ধরা পুলিশের হাতে। এমন ঘটনা ঘটেছে যশোরের মণিরামপুরে।
জানা গেছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে মণিরামপুর থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ৩৬ লাখ টাকা ও ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ অপহরণ করা হয়েছিল। বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে। এর পর গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ধামাচামা গ্রামে অভিযান চালিয়ে অপহৃতাকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশের একটি টিম। এসময় অপহরণে জড়িত থাকায় আটক করা হয় স্থানীয় এক মেম্বারসহ ৩ যুবককে। আটককৃতরা হলেন, ধুনট উপজেলার ধামাচাপা গ্রামের জুয়েল আহমেদ, একই গ্রামের ইউপি মেম্বার আলমগীর হোসেন ও তার ভাই মামুন উর রশিদ।
যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহমেদ জানান, আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে শুক্রবার (২৬ জুন) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান আকটকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আসামিরা টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতানোর উদ্দেশ্যে কৌশলে প্রবাসীর স্ত্রী রিমা খাতুনকে অপহরণ করে আটকে রাখে।
মণিরামপুর থানার ওসি মারুফ আহমেদ জানান, থানার মহাদেবপুর গ্রামের প্রবাসী হাফিজুর রহমান গাজীর স্ত্রী রিমা খাতুনের সঙ্গে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলের ধুনটের মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা। এর পর গত ১ জুন হঠাৎই নিখোঁজ হন রিমা। পরে তার পরিবারের লোকজন জানতে পারে, সোহেলের নির্দেশে তার ছোট ভাইসহ কয়েকজন রিমাকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় রিমা তার স্বামীর পাঠানো ৩৬ লাখ টাকা ও ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৬ জুন রিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মণিরামপুর থানায় অপহরণের মামলা করেন। মামলাটির তদন্তভার পায় ডিবি পুলিশ। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিম ও আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
ওসি মারুফ বলেন, শুক্রবার বিকালে রিমা ও আটক তিন আসামিকে যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। রিমা দণ্ডবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। এছাড়া আটক তিন আসামি আদালতে অপহণের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। পরে আদালত রিমাকে তার পরিবারের হেফাজতে দেন এবং আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

