ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ থেকে মোহম্মাদ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ, নতুন সিইও (চলতি দায়িত্বে) আফতাব বিশ্বাস

ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ থেকে মোহম্মাদ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ, নতুন সিইও (চলতি দায়িত্বে) আফতাব বিশ্বাস
ডিবিএল (ঢাকা ব্যাংক) সিকিউরিটিজের বিদায়ী সিইও মোহম্মাদ আলী ও নতুন সিইও (ভারপাপ্ত) আফতাব বিশ্বাস

উত্তরদক্ষিণ । ২৯ জুন ২০২০ । আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০। ০৯:১৫

শেয়ার মার্কেটের আলোচিত চরিত্র ও বহু ঘটনার নেপথ্যের ‘গুরু’ মোহম্মাদ আলী অবশেষে ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ থেকে বিদায় হলেন। সোমবার (২৯ জুন)বিকেলে ডিবিএল (ঢাকা ব্যাংক) সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিইও পদ থেকে তাকে স্ট্যান্ড-রিলিজ করা হয়।

একই সময়ে ব্যাংকের সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসএভিপি) আফতাব বিশ্বাসকে নতুন সিইও (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

নতুন সিইও (চলতি দায়িত্ব) আফতাব বিশ্বাস দীর্ঘদিন শেয়ার মার্কেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি একজন সত ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার কর্মজীবনের সিংহভাগ সময় ঢাকা ব্যাংকের সঙ্গে কেটেছে। তিনি কিছুদিন আইএফআইসি ব্যাংক সিকিউরিটিজে উর্ধত্মন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।   

ডিবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ডিবিএলএসএল) মূলতঃ ঢাকা ব্যাংকের একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)’র রেজিস্টার্ড একটি ব্রোকারেজ হাউজ। এটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই)’র সদস্য-প্রতিষ্ঠান।

এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি দেশের শেয়ার মার্কেটের অন্যতম ব্রোকারেজ হাউজ।   

সোমবার (২৯ জুন) সারাদিনই ডিবিএল সিকিউরিটিজের অভিভাবক (প্যারেন্ট) কোম্পানী ঢাকা ব্যাংকের উচ্চ মহলে দফায় দফায় মিটিং শেষে বিকেলে মোহম্মাদ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

এরপর ব্যাংকের এইচ-আর ডিপার্টমেন্ট থেকে ফোন করে তাৎক্ষণিক ভাবে মোহম্মাদ আলীকে হেড অফিসে ডেকে নিয়ে স্ট্যান্ড-রিলিজের চিঠি ধরিয়ে দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, মোহম্মাদ আলীর বিরুদ্ধে “তহবিল অপব্যবহার” ও “কারসাজি” সহ অনেক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওইসব অভিযোগের তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে উর্ধত্মন কর্তৃপক্ষের হাতে বেশ কিছু অকাট্য তথ্য-প্রমাণ চলে আসায় ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও পদ থেকে তাকে অব্যহতি দেয়া হয়।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় ফোনে মোহম্মাদ আলীকে পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে তার মোবাইলে (০১৭৫৫XXXXX৫) এই প্রতিবেদক একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি কল-ব্যাক করেননি। এরপর তার মোবাইলে টেক্সট-মেসেজ পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও স্ট্যান্ড-রিলিজ সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চেয়ে ওই টেক্সট-মেসেজ পাঠানো হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি সেটারও জবাব দেননি।

ডিবিএল সিকিউরিটিজের একজন কর্মকর্তা সোমবার (২৯ জুন) রাতে উত্তরদক্ষিণকে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের তহবিলের অপব্যবহার বা শেয়ার মার্কেটের কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্যার (মোহম্মাদ আলী) সব সময় অস্বীকার করে থাকেন। কোন ধরনের অনিয়মের সঙ্গে কোন ভাবেই জড়িত নন বলে স্যার (মোহম্মাদ আলী) দাবি করেছেন”।

সিইও পদ থেকে স্ট্যান্ড রিলিজের পর মোহম্মাদ আলী আপাততঃ ‘ওএসডি’ হিসেবে থাকছেন। এ মুহুর্তে তার চাকরির বিষয়টি ঝুলে থাকলেও যে কোন সময় চাকরীচ্যুত হতে পারেন বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

তাকে “স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগ” দেয়া হতে পারে।

স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ার পর থেকেই তাকে যেন “সন্মানজনক ভাবে বিদায় করা হয়” সেই ব্যাপারে মোহম্মাদ আলী ঢাকা ব্যাংকের বিভিন্ন মহলে ও সিকিউরিটিজের সহকর্মীদের কাছে অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, লুতফর রহমান বাদল ও ঢাকা ব্যাংকের সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমানের “অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাজন” হিসেবে মোহম্মাদ আলীর পরিচিতি রয়েছে।

SekFaruk

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading