‘করোনায় মরে যাওয়া মানুষ আমার কেউ না, এমনটি ভাবতে পারি না’
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২০। আপডেট ১৮:১৩
‘আজকাল খবরের কাগজ রাখি- যদি দরকার হয় কোনও তথ্যের জন্য কেবল সে কারণে। তবে পড়ি খুব কম। আমি আবেগ’ প্রবণ। এটা আমার দোষ। আমি তা জানি। কিন্তু অচেনা মৃত মানুষগুলো- তা হোক সড়ক বা নৌ দুর্ঘটনায়, বা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মরে যাওয়া— ওরা আমার কেউ না, এমনটি আমি ভাবতে পারি না।’
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ৩টার দিকে নিজের ভেরিভায়েড ফেইসবুক পেইজে দেয়া পোস্টে এমনটাই বলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম।
ফেইসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, অনেকবার আল্লাহর কাছে চেয়েছি— আমাকে একটু অন্যরকম করে দাও। অন্যের কষ্টে কষ্ট পেলে অনেক কষ্ট হয়। আল্লাহ কেন যেন আমার দোয়া কবুল করেন। আমি তার অনেক প্রমাণ পেয়েছি। কিন্তু আমার আবেগশূন্য হবার দোয়াটা কবুল হলো না।
তিনি লিখেছেন, এত মৃত মানুষের পাশে সন্তানের আহাজারি, বাঁচাবার চেষ্টায় ব্যর্থ চিকিৎসক -এর অসহায় লাশের পাশে অসহায় বসে থাকার দৃশ্য আমাকে কষ্ট দেয়। ভীষণ কষ্ট।
সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, কল ও ইন্টারনেট-এর রেট কমানো হচ্ছে- প্রায় নিশ্চিত হয়ে খবরটি দিয়েছিলাম। আইনজীবী বলে কোনও কিছু নিজ চোখে না দেখলে “যদি হয়”-লেখাটি যুক্তিযুক্ত, তাই প্রায় নিশ্চিত হয়েও “যদি” শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম.. নয়তো আপনাদের কাছে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকতাম। তবে আমি আজ প্রতিজ্ঞা করে বলছি- “করোনা পরীক্ষার ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত” -পরিবর্তন করে, বা বিনামূল্যে তা করার ব্যবস্থা না করা হলে আমি আমার এই পেইজে আপাতত আর কোনওদিন কিছু লিখবো না।
তার ভাষায়, এছাড়া আমার চাওয়ার গুরুত্ব বোঝাবার আমার আর কোনও ক্ষমতা বা উপায় নেই (ফি বৃদ্ধি করলে বহু মানুষ অর্থের জন্য টেস্ট করাবে না। infection tracing, isolation করা যাবে না তাদের। এতে infection rate বাড়বে)। জানি পদে না থাকলে শোনার কেউ থাকে না। তবে নিজের বিবেকের কাছে আমি দায়ী থাকবো না- বলে আমার কর্তব্য আমি পালন করে গেলাম। খোদাহাফেজ। চাওয়াটা পূরণ হলে আবার লিখব। নয়তো এটিই আপাতত শেষ লেখা।

