সদ্য পাস হওয়া বাজেট বিএনপি’র এমপিদের ‘প্রত্যাখ্যান’
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার ০১ জুলাই ২০২০। আপডেট ১৭:৪৩
জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট ‘প্রত্যাখ্যান’ করে তার কপি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিএনপি দলীয়র সংসদ সদস্যরা (এমপি)। একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় সরকারকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং রোডম্যাপ তৈরি করে জাতির উদ্দেশে প্রকাশ করারও দাবি জানান তারা। বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে জাতীয় সংসদের বাইরে বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেন বিএনপি দলীয় ৫ এমপি। পরে তারা বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলেন। দলটির বাকি দুই সংসদ সদস্য অসুস্থ থাকায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানানো হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) নতুন অর্থ বছরের বাজেট পাস হয়, যা বুধবার (০১ জুলাই) থেকে কার্যকর শুরু হয়েছে। এর পর বিএনপি দলীয় এমপিরা তা প্রত্যাখ্যান করে অভিনব কর্মসূচি পালন করলেন।

বুধবার বাজে প্রত্যাখ্যান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তার ভাষ্য, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে একমাত্র আমাকে বাজেট আলোচনার শেষ দিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু একপর্যায়ে স্পিকার আমার মাইকও বন্ধ করে দেন। মাত্র একজনই বিরোধী দলের সদস্য। বাকি সবাই মহাজোটের শরিক। আমাদের দাবি ছিল- ভার্চুয়াল বাজেট আলোচনার। সেটা হলে সব সদস্য তার বাজেট প্রতিক্রিয়া দিতে পারতেন। সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।’
এসময় ফের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের অপসারণ দাবি করে হারুন বলেন, ‘অবিলম্বে তাকে অপসারণ করে যোগ্য ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে হবে। অতি দ্রুত করোনা নিয়ন্ত্রণ, উত্তরণের জন্য এবং বিনা চিকিৎসায় যেন মানুষ না মারা যায়, তার সুনির্দিষ্ট করে পরিকল্পনা এবং রোডম্যাপ জাতির উদ্দেশে দিতে হবে সরকারকে।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, জিএম সিরাজ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।
গণমাধ্যমের সামনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। করোনা মোকাবিলায় বিএনপির দেওয়া ৮৭ হাজার কোটি আর্থিক সহায়তা প্যকেজের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমরা তিন বছর মেয়াদি বাজেট ভাবনা দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বরাবরের মতো তার চরম কর্তৃত্ববাদী চরিত্র বজায় রেখে বিএনপি’র পরামর্শগুলো আমলে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সরকার যে বাজেট প্রস্তাবনা সামনে এনেছে, সেটা একমাত্র ক্ষমতাসীন দল ছাড়া কেউ কোনোভাবেই একটা সংকটকালীন বাজেট হয়েছে বলে রায় দেয়নি।’
ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, বাজেটে বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনও কর্মসূচি নেই। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘করোনা সংকটের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের একটা পর্যটন খাত নিয়ে দেওয়া হয়নি একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও। এই দেশে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও যে মোবাইল ফোনে কথা বলে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেটা ব্যবহারের খরচ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু শুল্ক কমানো হয়েছে ধনীদের ব্যবহার্য সোনার।’

